ঝিনাইদহের ৫ স্টেশন

রাতে নিরাপত্তাহীন রেলস্টেশন ঘটছে চুরি ছিনতাই ধর্ষণ

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সুমন মালাকার, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ)

রাতে রেলযাত্রীর নিরাপত্তায় জিআরপি পুলিশের টহল না থাকায় অনিরাপদ হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থিত কোটচাঁদপুরসহ পাঁচ রেলওয়ে স্টেশন। দিনে স্টেশনগুলোতে যাত্রীর ভিড় থাকলেও রাতে সেখানে প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে রাতের ট্রেনে যাতায়াতকারী যাত্রীরা ভুগছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। সেই সঙ্গে ঘটছে চুরি, ছিনতাইয়ের পাশাপাশি ধর্ষণের মতো গুরুতর ঘটনা।

যাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশনগুলোতে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা, সেই সঙ্গে জিআরপি পুলিশের কোনো টহলও নেই। নিরাপত্তার অভাবে কোটচাঁদপুরে বন্ধ হয়েছে রাতে সীমান্ত এক্সপ্রেসের বিরতি। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের কথা বলা হলেও এখনো তা অনুমোদন হয়নি।

জেলার কোটচাঁদপুরসহ বিভিন্ন রেলস্টেশনে দিনে ঢাকা, খুলনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীদের ভিড় থাকে। তবে রাতে এই স্টেশনগুলো প্রায় যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে। এই সুযোগে মাঝে মধ্যেই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা-পয়সা, মোবাইল কিংবা জিনিসপত্র ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে স্টেশনগুলোর প্লাটফর্মসহ আশপাশের ঝোপ-ঝাড়ে হরহামেশাই চলে মাদকের আড্ডা। এমনকি নিরাপত্তার অভাবে নারী ধর্ষণের মতো ঘটনাও ঘটছে এসব রেলস্টেশনগুলোতে।

জেলা রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, জেলায় কোটচাঁদপুর ও মোবারকগঞ্জসহ পাঁচটি স্টেশন রয়েছে। এই স্টেশনগুলোর ওপর দিয়ে খুলনা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ১৮টি ট্রেন যাতায়াত করে। এগুলোর মধ্যে দিনে আপ অ্যান্ড ডাউন মিলে ৯টি এবং রাতে তিনটি ট্রেনের স্টপেজ আছে। দিনের বেলায় ট্রেনের যাত্রী থাকলেও রাতে একেবারেই যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে স্টেশনে। ১৯৭৩ সালে জেলার মোবারকগঞ্জ স্টেশনে ছয় সদস্যের আরএনবি ক্যাম্প (রেলওয়ের নিরাপত্তায় নিয়োজিত বিশেষ বাহিনী) থাকলেও ২০০৫ সালের দিকে তা তুলে নেওয়া হয় বলে রেল কর্তৃপক্ষ সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানায় যায়, ২০১৭ সালের ৫ মে রাতে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশে কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা দুই নারী ধর্ষণের শিকার হন। এই ঘটনায় থানায় মামলার পর কোটচাঁদপুর উপজেলা ছাত্রলীগের তৎকালিন সভাপতি শেখ শাহিনসহ তিনজনকে আটক করে জেলহাজতে প্রেরণ করে পুলিশ। চলতি বছরের ১০ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেসে কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনে নামা এক যাত্রীকে ছুরিকাঘাত করে মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় তিন-চারজন ছিনতাইকারীর একটি দল। ১৩ই সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে বাড়ি ফেরার সময় রেল কলোনিপাড়ার সাইফুল ইসলাম সম্রাট নামে এক যুবককে চুরিকাঘাত করে। এই সব ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন রাতে চলাচলকারী যাত্রীরা।

স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী কিংবা জিআরপি পুলিশের টহলের ব্যবস্থা দাবি জানিয়ে যাত্রী ও স্থানীয়রা প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আরামদায়ক ও ভালো লাগে বলেই ট্রেনে যাতায়াত করি। আগে রাতে সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়াত, কিন্তু নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন আর দাঁড়ায় না। সরকারের কাছে এই এলাকার মানুষের দাবি, স্টেশনগুলোতে যেন দ্রুতই জিআরপি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তা শঙ্কার কথা স্বীকার করে কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার গোলাম মোস্তফা এই প্রতিবেদককে জানান, শুধু নিরাপত্তাজনিত কারণে এখানে সীমান্ত এক্সপ্রেসের স্টপেজ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে বার বার জানাচ্ছি যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে যেন দ্রুতই জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়।

এর আগেও অনেকবার স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ব্যাপারে রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো তা অনুমোদন হয়নি।

"