জমি নেই ঘর নেই, তবুও এমরানের নাম নেই তালিকায়

‘জন্মের পর থেকেই অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছি’

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শরীফ আহমেদ, চাঁদপুর

এমরান হোসেন (৩৫)। গত ২০১৬ সাল থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ১৫নং রূপসা উত্তর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের খাল পাড়ে চার সন্তানসহ পরিবার নিয়ে অস্থায়ী একটি টিনের ঘরে বসবাস করে আসছেন। তার নেই নিজের কোনো জমি কিংবা ঘর। কিন্তু তারপরেও সরকারের করা জমি ঘরহীনদের তালিকায় নাম নেই এমরানের।

জানা যায়, এমরানের পিতার নাম সুজা মিয়া। ৩২ বছর পূর্বে বারপাইকা চটকি বাড়িতে পরিবারের ছয় সদস্য নিয়ে বসবাস করতেন। জমি-সম্পদ না থাকায় সুজা মিয়া পরিবার নিয়ে পাড়ি জমায় রায়পুর উপজেলার মীরগঞ্জ গ্রামে। দিনমজুর সুজা মিয়া পরিবারের ছেলেমেয়েদের বেশি পড়ালেখা করাতে পারেননি। সর্বশেষ সুজা মিয়া পরিবার নিয়ে বারপাইকা চটকী বাড়িতে চলে আসেন। এসে পৈত্রিক ভূমিতে ঠাই না পাওয়ায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করেন। আর্থিক দৈন্যতায় ভাড়া বাড়িতে থাকা সম্ভব হয়ে উঠেনি।

পরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জহিরুল ইসলাম তাদের আশ্রয় হিসেবে খালপাড়ে তার জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে দেন। এমরানের বাবা সুজা মিয়া তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে রায়পুরের মীরগঞ্জ গ্রামে অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছেন। এমরান হোসেন বলেন, জন্মের পর থেকেই অন্যের জমিতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করছি। এদিকে, এমরানের পরিবারকে পূর্ণবাসনের জন্য ভূমিহীনদের তালিকায় অন্তরভুক্তি করার জন্য স্থানীয় সরকারি কর্মচারী নুরুল আমিন ইউএনও বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। নুরুল আমিন জানান, এই দরিদ্র পরিবারটিকে পুনর্বাসনের জন্য এলাকাবাসী সহযোগিতা করছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন জানান, আমার পক্ষ থেকে এমরানের পরিবারকে পুনর্বাসন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমান সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ভূমিহীনদের ওই তালিকায় তাদের নাম আসে না।

রূপসা উত্তর ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, এমরান ও তার বাবা সুজা মিয়ার পরিবার কখনো এ বিষয় নিয়ে আমার কাছে আসেনি। আমি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরঙ্গ জেব বলেন, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ভূমিহীন ও জমি আছে ঘর নেই এদের পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। এই পরিবারটির খোঁজ খবর নিয়ে আমরা পুনর্বাসনের চেষ্টা করব। ইউএনও এ এইচ এম মাহফুজুর রহমান বলেন, ভূমিহীন এই পরিবারটির বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এগিয়ে আসলে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে সহজেই পুনর্বাসন করা সম্ভব হয়।

"