ঈশ্বরগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোয় পারাপার

আশ্বাস সত্ত্বেও সেতু পায়নি ৭ গ্রামের মানুষ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি সেতুর অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাত গ্রামের মানুষ। চলাচলের একমাত্র ভরসা কেবল বাঁশের সাঁকোটি। অনেক আশ্বাস সত্ত্বেও সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের ক্ষোভের শেষ নেই। স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ সেতুর জন্য কয়েকবার প্রস্তাব পাঠালেও তা আটকে রয়েছে।

উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম মুখে সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দুটি ইউনিয়ন উচাখিলা ও রাজিবপুর। নদীর কোল ঘেঁষে এ দুইটি অঞ্চলের অবস্থান। উচাখিলা-মধুপুর সড়ক থেকে নদী পার হয়ে কুলিয়ারচর, মাছুয়াডাঙা (মমরেজপুর), যাদুয়ারচর, বিষ্ণুপুর, ভাটিরচর, কুডেরচর ও উজানচর গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হয়। তাদের চলাচলের ভরসা কেবল বাঁশের সাঁকো। দীর্ঘদিন ধরে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করা মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন স্থানীয়রা। সেতুর অনেক আশ্বাস পেলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এমতাবস্থায় হতাশ এসব গ্রামের লোকজন।

কৃষি নির্ভর এলাকাগুলোর কৃষকদের তাদের উৎপাদিত পণ্য নদী পার হয়ে বাজারে নিয়ে যেতে হয়। এ ছাড়াও নানা বয়সী শিক্ষার্থীদের সাঁকো পেরিয়ে যেতে হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। সাঁকোতে চলাচলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। বইপত্র নিয়ে প্রায়ই সেতুর নিচে পরে যায় শিক্ষার্থীরা। ২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব কুমার সরকার সেতু এলাকার মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন। তাৎক্ষণিকভাবে সাঁকোর স্থলে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি প্রশস্ত বাঁশের সাঁকো নির্মাণের ব্যবস্থা করে দেন। ওই এলাকার একটি সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) তখন সেতু নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায়। সেতুর পাপজোপ ও সয়েল টেস্টও করা হয়। কিন্তু সেতুটি অনুমোদন না হওয়ায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমছে না।

রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মুদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ‘সেতুটি এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি। একটি সেতুর জন্য এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। কিন্তু কী কারণে সেতুটি নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না সেটি আমার জানা নেই।’

স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিইডির) ঈশ্বরগঞ্জ শাখার উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা জানান, সেতুর জন্য তারা বেশ কয়েক দফা মাপজোপ করে প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছেন। সয়েল টেস্টও করা হয়েছে। কিন্তু সেতুটির অনুমোদন হয়নি।

"