নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাস গবাদিপশুর অবাধ চারণক্ষেত্র

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ওহী আলম, নোবিপ্রবি

সবুজ ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ। কিন্তু এই সবুজকে গ্রাস করতে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েছে গবাদি পশু। যেন গরু-ছাগলের অবাধ চারণক্ষেত্র। এ অবস্থা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেখা গেলেও মেলেনি তার কোন প্রয়োগ। ভেতরে ঢুকলেই দেখা মেলে ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য্য বর্ধণের জন্য লাগানো গাছপালা খেয়ে নিচ্ছে গরু-ছাগল।

অভিযোগ আছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নশ্রেণির কিছু অসাধু কর্মচারি অনানুমোধিত উপার্জনের জন্য বাইরে থেকে গরু ঢুকতে দিচ্ছে।

প্রায়শই বিশ্ববিদ্যালয় গোলচত্বরে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধ ভাস্কর্যের বাউন্ডারির ভেতর নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে গরু-ছাগলের চলাচল এবং সেখানে থাকা গাছপালা খাবার দৃশ্য দেখা যায়। এ দৃশ্য শুধু গোলচত্বরে নয়। ক্যাম্পাসের চলাচলের রাস্তায়, অডিটোরিয়ামের চারপাশে, মাঠে, ধানক্ষেতে, হলের আশে-পাশে, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ডর্মেটরি সবখানেই একই দৃশ্য। বাউন্ডারির ভিতর গরু-ছাগলগুলো এলো কোথায় থেকে? কে এদের মালিক? এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘প্রায় প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য ভর্তি পরীক্ষার আগে একটা বড় অংকের টাকার গাছপালা লাগানো হয়। কিন্তু এ সকল গবাদিপশুর অবাদ বিচরণের ফলে তা রক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠেছে।’

নোবিপ্রবিতে কর্মরত কয়েকজন আনসার ও মালিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ঘুরাঘুরি করা এ গরুগুলো নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামানের বাংলোর। তবে উপাচার্যের বাংলোর গরুর সংখ্যা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে কেউই এর সঠিক সংখ্যা জানাতে পারেনি। কেউ বলে ৬টা, কেউবা ৯টা। কেউ আবার বলেন ৩টা।

তবে বিশেষ সূত্রে জানা যায়, উপাচার্যের অজান্তেই তার নাম ব্যবহার করে কিছু নি¤œশ্রেণির কর্মচারী অনানুমোধিত ভাবে টাকা উপার্জন করছে। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকে আসা গরুগুলোকে উপাচার্যের গরু বলে চালিয়ে দিচ্ছে এবং সে সব গরুর মালিক থেকে দেখভাল বাবদ চাঁদা গ্রহণ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর মোমিনুল হকের সঙ্গে মোবাইলে আলাপ হলে তিনি সুস্পষ্টভাবে কিছু জানাতে পারেননি। বরং তিনি এ বিষয়ে অবগত নন বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেট এন্ড হাউজিং শাখায় খোঁজ নিলে তারা জানান, অবাধে ঘুরাঘুরি করা এ গরুগুলো বেশি ভাগই বাইরে থেকে আসে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংলগ্ন পকেট গেইট ব্যবহার করে এগুলো ভিতরে প্রবেশ করছে। স্টেট শাখার পক্ষ থেকে ঐ গেটে একজন আনসার নিযুক্ত করার জন্য ঊর্ধ্বতন প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তারা।

আলাপের এক ফাঁকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী এ বিষয়ে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় গোবর পড়ে থাকে। এসব দেখেও প্রশাসন নিরব। প্রশ্ন হচ্ছে এসব বিষয়ে প্রশাসনের টনক কবে নড়বে? ক্যাম্পাস আমাদের। তাকে সৃন্দর এবং পরিষ্কার রাখার দায়িত্বটা যেমন আমাদের, তেমনি প্রশাসনেরও। এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’

জানতে চাইলে উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘আমার কিছু গরু আছে, তবে সেগুলো সবসময়ই বাঁধা থাকে। এগুলো কারো কোন ক্ষতি করে না। তবে বাইরের থেকে কিছু গরু-ছাগল ক্যাম্পাসের ভিতরে আসে। সে ব্যাপারে আমরা আরও কঠোর হব।’

"