ঢাকা-চট্টগ্রাম ১৬ কিলোমিটার মহাসড়ক

সোনারগাঁয়ে এক বছরে ৮৯ দুর্ঘটনা ২৭ প্রাণহানি

কাঁচপুর থেকে মেঘনা পর্যন্ত মহাসড়কে অবাধে চলছে ৩ চাকার নিষিদ্ধ যান

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আশরাফুল আলম, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকা এখন অরক্ষিত। ট্রাফিক আইন না মেনে ঢাকা-চট্টগ্রাম এ মহাসড়কে অবাধে চলছে তিন চাকার নিষিদ্ধ ইজিবাইক, অটোরিকশা, নসিমন ও বটবটিসহ বিভিন্ন যান। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সরকার এ মহাসড়কের মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায় ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ করলেও প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার মানুষ মহাসড়ক পারাপার হচ্ছে। যার ফলে কয়েক দিন পর পর ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। গত এক বছরে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

সোনারগাঁ থানা ও কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় গত এক বছরে ৮৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে এর মধ্যে ২৭ জনের প্রাণহানি ও অসংখ্য মানুষের অঙ্গহানি ঘটে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। সরেজমিন গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কের কাঁচপুর, কেওডালা, দড়িকান্দি, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা ও মেঘনা সেতু এলাকার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে দেখা যায় পুরো সড়ক অরক্ষিত। কাঁচপুর সেতু থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার এলাকায় কোনো ধরনের ট্রাফিক আইন মানা হচ্ছে না।

মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় দেখা যায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছেড়ে আসা ও বন্দরগামী যেসব পণ্যবাহী ট্রাক ও লরি মদনপুর-জয়দেবপুর (ঢাকা বাইপাস) সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করছে। উল্টোপথে নিষিদ্ধ ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচলের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা দেখা যায় মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকায়। মহাসড়কের যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বরত হাইওয়ে পুলিশের সদস্যদের সামনেই দেখা গেল মহাসড়কের ওপর অবৈধ যানবাহনের রীতিমতো স্ট্যান্ড বানিয়ে এসব নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করছে। তা ছাড়া পথচারীদের জন্য ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও পথচারী ব্রিজের নিচে মাত্র ৩০ গজ দূর দিয়ে পুলিশের সামনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী শিশু ও পথচারীরা সড়ক পারাপার হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশের একজন সদস্য জানান, আমরা নিষেধ করলেও অবৈধ যানবাহন কোনোভাবেই বন্ধ রাখতে পারছি না। স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা এসব যানবাহন থেকে চাঁদা নিয়ে মহাসড়কে চলাচল করার সুযোগ করে দিয়েছে। আর মানুষ সচেতন না হওয়ার কারণে ফুটওভার ব্রিজ থাকা সত্ত্বেও নিচ দিয়ে লাফিয়ে সড়ক পারাপার হচ্ছে। এসব কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। প্রায় সময় ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা।

সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ও মোগরাপাড়া চৌরাস্তা এলাকার ইজিবাইক ও অটোরিকশা মালিক সমিতির নেতারা জানান, সোনারগাঁ উপজেলায় প্রায় চার হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও বটবটি চলাচল করে। মহাসড়ক দিয়ে এসব যানবাহন চলাচল করতে পুলিশকে তাদের প্রতি যানবাহন বাবদ ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা করে ঘুষ দিতে হয়। তা ছাড়া একটি শ্রমিক সংগঠনকে আলাদা চাঁদা দিতে হয়। এসব চাঁদা দিয়েই তারা মহাসড়ক ব্যবহার করার সুযোগ পান।

ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী শ্যামলী পরিবহনের চালক আবদুল গাফফার জানান, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কীভাবে সরকারের নিষিদ্ধ যানবাহন চলাচল করে তা সবাই ভালো করেই জানে। মহাসড়কে কাঁচপুর থেকে মেঘনা সেতু পর্যন্ত প্রতিদিনের দুর্বিসহ যানজটের প্রধান কারণ এসব নিষিদ্ধ যানবাহন। এসব যানবাহন বেশির ভাগ সময়েই উল্টোপথে চলাচল করে। সোনারগাঁ নাগরিক কমিটির সদস্য ও লেখক রবিউল হুসাইন জানান, মানুষ সচেতন না হওয়ার কারণে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না। তা ছাড়া পুলিশের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিষিদ্ধ যানবাহন মহাসড়কে চলাচল করছে। এ কারণে মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজটে মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম আলী জানান, যানজট নিরসনে ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার লক্ষে আমি নিজে মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে পথচারী ও চালকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু নিষিদ্ধ যানবাহন হয়তো চলাচল করে। আমরা এসব যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্য চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। যদি এমন প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"