চুয়াডাঙ্গায় আগাম শিম চাষ ভালো ফলন ও দামে খুশি চাষিরা

প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শামসুজ্জোহা পলাশ, চুয়াডাঙ্গা

অনুকূল পরিবেশ থাকায় চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন মাঠে আগাম অটোজাতের শিমের আবাদ করেছেন চাষিরা। ভালো ফলন ও দাম পেয়ে খুশি শিমচাষিরা। ফলন এবং বাজার দামে খুশিই আছেন শিমচাষিরা। চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৭৬৭ হেক্টর জমিতে আগাম অটোজাতের শিম চাষ করেছেন চাষিরা। জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৭৫ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ৩৫২ হেক্টর, জীননগর উপজেলায় ১২৫ হেক্টর এবং সদর উপজেলায় ২১৫ হেক্টর জমিতে শিমের চাষ করা হয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছর বৃষ্টিপাত থেমে থেমে হওয়ায় অসময়ে শিমের আবাদ বেশ ভালো হয়েছে। অন্যদিকে স্বল্প সময়ে অধিক লাভ হওয়ায় শিমের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। গ্রামের মাঠেজুড়ে শিম আর শিমের মাচা। মাটি থেকে সর্বোচ্চ ৪-৫ ফুট উঁচু বাঁশের মাচা তৈরি করে আবাদ করা হয়েছে উচ্চফলনশীল অটোজাতের শিম।

সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের শিমচাষি আবু হানিফ বলেন, কয়েক বছর ধরে শিম চাষ করে আসছি। বর্তমানে আড়াই বিঘা জমিতে শিম চাষ করেছি। ফলন ও দাম দুটোয় ভালো। প্রতি বছর শিম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা আয় করছেন চাষিরা।

তিরি আরো জানান, এ বছর বিঘাপ্রতি এক লাখ টাকার শিম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশাবাদী। ইতোমধ্যে কয়েক মণ শিম বিক্রি করেছেন। তার আড়াই বিঘা জমির শিম কমপক্ষে আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শিমচাষি মনু মিয়া, এনাফ বিশ্বাস, আবু হানিফ, বোরহান, আমিরুল, মালেক মেম্বার, ফারুক, চান্দু, কাশেম, মালেক বিশ্বাস, মনির হোসেন, শুকুর আলীসহ বেশ কয়েকজন শিমচাষি জানান, শিম চাষ তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

কৃষকরা জানান, এক বিঘা জমিতে শিম চাষ করতে বীজ, সার, বাঁশ, তার, শ্রমিক, সেচ ধরে খরচ হয় ১৮-২০ হাজার টাকা। শিমের গাছ মাচায় উঠে গেলে ফুল এবং ফল ধরার সময় পোকা দমনে প্রায় প্রতিদিন কীটনাশক ¯েপ্র করতে হয়। ৫০-৫৫ দিনের মাথায় শিম ধরা শুরু করে। প্রথম দিকে কেজিপ্রতি বাজারদর ১০০-১১০ টাকা হলেও বর্তমানে শিম ৭৫ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার তালহা জুবাইর মাসরুর জানান, এলাকার জমি সবজি চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ভুট্টার পরপরই চাষিরা শিমসহ বিভিন্ন প্রকার সবজি চাষ করে থাকেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হয়। আর অটোজাতের শিম এটা স্থানীয়দের দেওয়া নাম।

"