বাম্পার ফলন

লোকসানের আশঙ্কায় হালুয়াঘাটের আখচাষিরা

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাজহারুল ইসলাম মিশু, হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলায় আখের বাম্পার ফলন হলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন চাষিরা। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। আখ বাংলাদেশের স্বল্প খরচের মধ্যে একটি লাভজনক অর্থকরী ফসল। এ অঞ্চলের মাটি আখ চাষের সহায়ক হলেও নানা জটিলতার কারণে প্রতি বছর আখ চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন উপজেলার শাকুয়াই ইউনিয়নের ভাট্রা গ্রামের আখচাষিরা।

এ বছর উপজেলার ভাট্রা, ভাট্রা নয়াপাড়া, পিকা ও কৃষ্ণনগর এলাকায় ডুইরা ও মুন্সীগঞ্জ জাতের আখ ৩০ একর জমিতে স্বল্প পরিসরে আবাদ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক সময় পুরো এলাকা জুড়েই আখের আবাদ হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে আখের দাম কম হওয়া, বর্তমানে ভালো চারা না পাওয়া, যোগাযোগ প্রতিকূলতার কারণে বাজারজাত করতে সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি হওয়ায় কৃষকরা আখ চাষের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। সরকারিভাবে আখচাষিদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করলে এলাকায় ব্যাপক হারে আখ চাষ সম্ভব। এতে করে চাষিরাও উৎসাহী হবেন।

ভাট্রা গ্রামের আখচাষি আ. মোতালেব বলেন, এখন আখ চাষ করে তেমন লাভ হচ্ছে না। তাই আগের মতো আখ চাষে আর আগ্রহ দেখাচ্ছে না কেউ। বছরে কার্তিক মাসের শুরুতেই রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করতে হয়। প্রচুর পরিমাণে সার কীটনাশক স্প্রে করে পুরো এক বছর লেগে যায় বিক্রির উপযোগী করে তুলতে। এজন্য বর্ষজীবী ফসল আখ চাষ করা বাদ দিয়ে ওই জমিতে সবজি চাষ করে বেশি লাভজনক হচ্ছে বলে তিনি জানান।

বর্গাচাষি আবুল কাশেম জানান, গত বছর তিনি এক একর জমিতে আখের আবাদ করেছিলেন। এ বছর মাত্র ৬০ শতাংশ জমিতে আবাদ করেছেন। ৩০ হাজার টাকা খরচ করে লাভের আশা যেন ফিকে হয়ে গেছে। কারণ সঠিক সময়ে যদি ভালো দাম না পাওয়া যায়, তবে আখ চাষ করে লাভ কী। তাই বাধ্য হয়েই আবাদের পরিমাণ কমিয়ে ফেলেছি। অথচ বছরের অর্ধেক সময় একই জমিতে আখ চাষ না করে শুধু দুইবার ধান চাষ করলে লাভ বেশি পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুলতান আহমদ জানান, এ বছর উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। আশা করা যায় আগামী অর্থবছরে এর পরিমাণ আরো বৃদ্ধি পাবে। আখচাষিদের আমরা তেমন প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পাইনি। ভবিষ্যতে আখ চাষিদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরি জ্ঞান সম্পর্কে সমৃদ্ধ করা যায় সে ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।

"