পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট

তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মানিকগঞ্জ ও শিবালয় প্রতিনিধি

পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে পদ্মা-যমুনা নদীতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি ও প্রচন্ড স্রোত এবং যানবাহনের চাপ বৃদ্ধির কারণে গতকাল শুক্রবার ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে যানবাহনের দীর্ঘ সারি পাটুরিয়া-ঢাকা মহাসড়কের ফলসাটিয়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা বিস্তৃত হয়ে পড়ে। এ সময় ফেরি পারাপারের জন্য পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় আসা বাস ও কোচসহ বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে বিআইডব্লিউটিসির কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী যানবাহন পারাপার করায় ট্রাক চালকদের ২-৩ দিন করে ফেরি পারাপারের জন্য ঘাট এলাকায় পড়ে থাকতে হচ্ছে।

আরিচা বিআইডব্লিউটিসির অফিস সূত্রে জানা যায়, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটের পদ্মা-যমুনা নদীতে প্রচন্ড স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত ও বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পন্টুন উঠা-নামা করার কারণেও সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া এ নৌরুটে চলাচলকারী ফেরিগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় নদীতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে তিন-চারগুণেরও সময় বেশি লাগছে। নদীতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে অনেক সময় ফেরি ভিড়তে পাচ্ছে না।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাভাবিক সময়ে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি পারপার হতে সময় লাগে মাত্র ২৫ থেকে ৩০ মিনিট। কিন্তু নদীতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে এখন সময় লাগছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা। আবার অনেক সময় স্রোতের কারণে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পেরে দেড়-দুই কিলোমিটার ভাটিতে চলে যাচ্ছে। ফেরি নদীতে প্রচন্ড স্রোতের কারণে ঘাটে ভিড়তে সময় বেশি লাগায় ট্রিপ সংখ্যা অনেক কমে যায়। এ কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে চলাচলরত ১৮টি ফেরি মধ্যে ২টি ফেরি বিকল হয়ে মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ভাসমান কারখানা মধুমতিতে পড়ে থাকায় ১৬টি ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

যাত্রীরা জানান, প্রচন্ড গরমে গাড়িতে বসে থাকাও বিরক্তি কর। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। র্নিদিষ্ট সময় গন্তব্য স্থানে পৌঁছানো যায় না। তবে ঘাট কর্তৃপক্ষ যদি আরো একটু সচেতন হতো। তাহলে তাদের ভোগান্তী একটু কম হতো।

চালকরা জানান, রাস্তায় তেমন ভোগান্তী নেই। কিন্তু ফেরি ঘাট এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর ফেরির দেখা মিলে। সময় বেশি লাগায় তাদের ট্রিপ সংখ্যাও কমে যায়। ট্রাকের জন্য তাদের আরো সমস্যা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস রেখে ট্রাক পার করে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা।

গাবতলী থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়া বাসের চালক আরমান হোসেন জানান, গতকাল সকাল ৭টায় গাবতলী থেকে বাস ছেড়ে ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটে আসেন। কিন্তু গতকাল দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরিতে উঠতে পারেনি তিনি।

গাজীপুর থেকে ছেড়ে আসা কুষ্টিয়াগামী ট্রাক চালক শাহআলম জানান, গত বুধবার দুপুরে পাটুরিয়া ঘাটে এসে যানজটে পড়েন। কিন্তু গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষায় থেকেও ফেরি পারাপার হতে পারেনি তিনি। এ রকম অনেক ট্রাক চালকরাই ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির ঘাট ব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান জানান, পাটুরিয়া ঘাটে বিভিন্ন যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি ও নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘœ হচ্ছে। আবার অনেক সময় দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি ভিড়তে না পারায় ফিরে পাটুরয়া ঘাটে যেতে হচ্ছে। এভাবে ফেরির সময় কেটে যাওয়ায় ফেরির ট্রিপ সংখ্যা অনেক কমে যায়। এ কারণে ঘাট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসির পাটুরিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. তানভির হোসেন জানান, নদীতে স্রোতের কারণে ফেরি পারাপারে আগের চেয়ে বর্তমানে দ্বিগুণ সময় লাগছে। গতকাল শুক্রবার বন্ধের দিন থাকায় যানবাহনের বাড়তি চাপ বেড়েছে। এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। বর্তমানে পাটুরিয়া ঘাটে তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক ও চার শতাধিক যাত্রীবাহী বাস এবং দৌলতদিয়া প্রান্তে বাস ট্রাক মিলে তিন শতাধিক যানবাহন রয়েছে। এতে উভয় ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে। আরিচা অফিসের বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল হক অপু জানান, এ নৌরুটে চলাচলরত ফেরিগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো। এখানে মেরামতের কয়েক দিন যেতে না যেতেই বারবার বিকল হয়ে পড়ছে। নদীর স্রোতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেরিগুলো দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়তে সময় বেশি লাগছে।

"