হতদরিদ্রের চালের ওজনে কারচুপি

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

লিয়াকত হোসেন (লিংকন), কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ)

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা মূল্যের চাল ৩০ কেজির স্থলে ২৭ কেজি দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালের ডিলার মোশারফ হোসেনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে হতদরিদ্র মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি। ইউএনও সূত্রে জানা যায়, এর আগেও অনিয়মের অভিযোগে মোশারফ হোসেনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু এমপি মহোদয়ের অনুরোধে বহাল রাখা হয়েছে।

ভূক্তভোগিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার সকালে উপজেলার বাথানডাঙ্গা বাজারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের মাঝে ১০ টাকা দরে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রয় করা হয়। এতে জন প্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ২৭ কেজি করে চাল দেন ডিলার। এ সময় চাল বিতরণের স্থানে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলাউদ্দিনকে পাওয়া যায়নি। পরে অনিয়মের খবরে ট্যাগ কর্মকর্তা আলাউদ্দিন এবং মহেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৮-১০ জন কার্ডধারীর চাল পরিমাপ করে ২-৩ কেজি করে চাল কম পান। পরে তাদের ৩ কেজি করে চাল দিয়ে দেন চেয়ারম্যান। উপজেলার ডহরদুর্গাপুর গ্রামের লায়েক শেখ, তাসুদ শেখ ও নাজমুল শেখসহ একাধিক সুবিধাভোগী অভিযোগ করে জানায়, চালের ডিলার মোশারফ হোসেন ৩০ কেজির কথা বলে তাদের ২৭ কেজি করে দিয়েছেন। অথচ তাদের কাছ থেকে ৩০ কেজি চালের টাকা নিয়েছেন ডিলার। মহেশপুর ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে চাল মেপে ২৭ কেজি বা তার একটু বেশি পেয়েছি। কার্ডধারীদের ঘাটতি চাল পূরণ করে দিয়েছি।’

চালের ডিলার মোশারফ হোসেন ওজনে চাল কম হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘চাল মাপার কাটায় (বাটখারা) একটু সমস্যা থাকার কারণে চাল কম হয়েছে। পরে সেটা ঠিক করে সঠিকভাবে পরিমাপ করে চাল দেওয়া হয়।’

এ ব্যাপারে কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এএসএম মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘চাল বিতরণে অনিয়মের কথা শুনেছি এবং তাৎক্ষণিক ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলাউদ্দিনকে সরেজমিনে পাঠিয়েছি।’

"