হাজীগঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান শিক্ষক সংকট ও পাঠদান ব্যাহত

আতঙ্কে শিক্ষক অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্, হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর)

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩৪নং সিদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলছে। শ্রেণিকক্ষের সংকট থাকায় এভাবে ক্লাস নিতে হচ্ছে তাদের। তবে উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে যেকোনো মুহূর্তে ভবনটি ধসে পড়তে পারে বলে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সিদলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে একটি একতলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের মাত্র ২৪ বছরে ৪ কক্ষবিশিষ্ট ওই ভবনটিতে ফাটল ধরার পাশাপাশি পলেস্তার খসে পড়ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়টিতে দুটি একতলা ভবন রয়েছে। একটি ভবনের দুটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। অপর ৪ রুম থাকলেও ভবনটিতে ফাটল এবং পলেস্তার খসে পড়ছে। স্বল্প বরাদ্দ দিয়ে একদিকে সংস্কার করা হলেও অন্যদিকে পলেস্তার খসে পড়ছে, ফাটল দেখা দিচ্ছে। ভারি বৃষ্টি হলে ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। শ্রেণিকক্ষের অভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বাধ্য হয়েই ক্লাস নিতে হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ২৮৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৮ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও আছে ৫ জন। বাকি ৩ জনের মধ্যে ২০১০ সাল থেকে একজন পরীক্ষণ বিদ্যালয়ে, একজন বিপিএড প্রশিক্ষণরত এবং একজন সিনিয়র সহকারী শিক্ষক সম্প্রতি সময়ে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক হয়ে পার্শ্ববর্তী স্কুলে পদায়ন হয়েছেন।

অপরদিকে বিদ্যালয় মাঠে বৈদ্যুতিক টাওয়ার পিলার থাকার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না। এ নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় বেশ কয়েকবার লেখালেখি হয়েছে কিন্তু সমাধান হয়নি।

বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সাহানারা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের দুটি ভবনে ৪টি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে একটি ভবন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। প্রায় ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী হওয়ায় ২ শিফটে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কক্ষ সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের দুটি শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস এবং একটিতে শিক্ষকদের বসতে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ২০১৭ সালে ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ ভবন হিসেবে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে তথ্য প্রদান করা হয়েছে। খুব দ্রুত আমাদের একটি নতুন ভবন প্রয়োজন।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত ভবনটি পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।

স্বল্প বরাদ্দের টাকার সংস্কারের কথা উল্লেখ করে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল সরকার জানান, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এবং উপজেলা প্রকৌশলী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তথ্য দেওয়া আছে। বরাদ্দ পেলে কাজ করা হবে।

"