জয়পুরহাটে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া মেলে না ট্রেনের টিকিট

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রেজাউল করিম রেজা, জয়পুরহাট

নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাওয়া যায় না ট্রেনের টিকিট। জয়পুরহাট রেল স্টেশনে প্রতিনিয়ত ঘটছে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির ঘটনা। টিকেট নিতে এসে ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, টিকিট কাউন্টারে টিকিট কিনতে গেলে (আসন) টিকিট নেই বলে জানানো হয়। অথচ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা তাদের সিন্ডিকেটের লোকদের মাধ্যমে দিলে টিকিট পাওয়া যায়।

গত বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা যাওয়ার জন্য রাতের টিকিট চান শহরের চিত্রাপাড়া এলাকার রেজা। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আ. মালেক তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেন, আগামী ১৭ তারিখ পর্যন্ত ঢাকার ট্রেনে কোনো (আসন) নেই। এ সময় তাকে অনুরোধ করলেও কোনো কাজে আসেনি। ভুক্তভোগী রেজা প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, অথচ ঘটনার সময় স্টেশনে অবস্থানরত একজন পানের দোকানদারের তার কাছ থেকে ৪৪০ টাকা নিয়ে ঢাকাগামী একতা এক্সপ্রেস (৭০৬)-এর একটি টিকিট বের করে দেন।

বিষয়টি স্টেশন মাস্টার মো. হাবিবুর রহমান হাবিবের নিকট অবহিত করলে সঙ্গে সঙ্গে আ. মালেককে ডাকেন, আ. মালেক ৪০ টাকা বেশি নেওয়ার কথা স্বীকার করেন ও ভুল হয়েছে বলে জানান।

জয়পুরহাট শহরের মুজিব নগরের সনজিৎ, দক্ষিণ দেওয়ানপাড়ার আ. কুদ্দুস ভুট্টু, আদর্শপাড়ার মেহেদী হাসানসহ এলাকাবাসীরা জানান, জয়পুরহাট রেলের টিকিট একটি সিন্ডিকিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয় আর এই সিন্ডিকেট টিকিট কাউন্টার মাস্টার মনিরুল করিম মুনসহ টিকিট কাউন্টারের সবাই জড়িত। ১০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সাধারণ যাত্রীদের নিকট ঢাকার টিকিট বিক্রি করেন।

জানতে চাইলে জয়পুরহাট রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টার মাস্টার মুনিরুল করিম মুন মুঠোফোনে প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা সত্য নয়, যারা টিকিট পায় না সেসব ব্যক্তি এ অভিযোগ করেছেন।’ এদিকে জয়পুরহাট রেল স্টেশন মাস্টার মো. হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি এবং আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"