যশোরসহ ৩ জেলায় বেড়েছে নিরাপদ অভিবাসন সচেতনতা

* ১৪ বছরে দেড় লাখ বৈধ বহির্গমন * ১৬ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

এইচ আর তুহিন, যশোর

যশোর, মাগুরা ও নড়াইল জেলায় নিরাপদ অভিবাসন সচেতনতা বেড়েছে। বৈধভাবে বহির্গমনের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে অসংখ্য শ্রমিক। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত হওয়ায় বৈদেশিক কর্মসংস্থানও নিরাপদ হয়েছে। অর্থাৎ যারা বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড নিয়ে বিদেশে গেছেন তাদের জন্য রয়েছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা। বিদেশে মৃতকর্মীর পরিবারের জন্য সরকার লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ, আর্থিক অনুদান, মৃত্যুজনিত ত্মগতিপূরণ ও সন্তানদের শিত্মগাবৃত্তি প্রদান করছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধ প্রক্রিয়ায় নিরাপদ অভিবাসনে হচ্ছে। তবে অনিরাপদ অভিবাসন এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দালাল ও প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকে নিঃস্ব হচ্ছে। নিরাপদ অভিবাসনের জন্য শতভাগ মানুষকে সচেতন করতে কাজ করছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও।

যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ১৪ বছরে যশোর, মাগুরা ও নড়াইল জেলার ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪৭৩ জন বৈধভাবে কর্মসংস্থানের জন্য বহির্গমন করেছেন। এদের মধ্যে যশোর জেলায় ৮৪ হাজার ৬৭০ জন, মাগুরায় ৩১ হাজার ৯২৩ জন ও নড়াইলে ২৭ হাজার ৮৮০ জন। ২০০৪ সালে যশোরে ১ হাজার ১৮৪ জন, মাগুরায় ৪৫৫ জন ও নড়াইলের ৫৫৮ জন বৈধভাবে কর্মসংস্থানের জন্য বহির্গমন করেন। ১৪ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যা বড়েছে কয়েকগুণ। সর্বশেষ ২০১৭ সালে যশোরে ৯ হাজার ৫৪৫ জন, মাগুরার ৪ হাজার ৯৭৫ জন ও নড়াইলের ৪ হাজার ৭৪১ জন ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গমন করেছে। প্রত্যেক বছরের বহির্গমনের সংখ্যার তারতম্য হলেও সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বেড়েছে। ফলে বৈধভাবে ছাড়পত্র নিয়ে বহির্গমনের হার বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ভিসাপ্রাপ্ত বিদেশগামী কর্মীদের রেজিস্ট্রেশন ও ফিঙ্গার ইম্প্রেশন সহজ করা হয়েছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩ এর ১৯ ধারা অনুযায়ী অভিবাসন করতে আগ্রহী ব্যক্তি বা অভিবাসী সব কর্মীকে নিজ নিজ পেশা উল্লেেখপূর্বক বিএমআইটির সার্ভারে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যারা বহির্গমন ছাড়পত্র ও স্মার্টকার্ড নিয়ে অভিবাসনে কর্মীর কাজের যেমন নিরাপত্তা নিশ্চিত, তেমনি ঝুঁকিও কম থাকে। যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত যশোর, নড়াইল ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা বিদেশে মৃতকর্মীর পরিবারের সদস্যদের মাঝে ১৬ কোটি ৪ লাখ ৯১ হাজার ৫২২ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে লাশ পরিবহন ও দাফন বাবদ ৩১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, আর্থিক অনুদান ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা, মৃত্যুজনিত ত্মগতিপূরণ, বকেয়া বেতন ও ইনসুরেন্স বাবদ ৭ কোটি ২১ লাখ ৫ হাজার ৬২২ টাকা ও সন্তানদের শিত্মগাবৃত্তি বাবদ ৮ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মলি¯œক বলেন, নিরাপদ অভিবাসনের বিকল্প নেই। নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পাচারও কমবে। এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ব্যক্তি ও এজেন্সির প্রতারণার শিকার হচ্ছে। বিদেশে পাচার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। দেশে ফিরে এসে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বৈধভাবে বিদেশে গেলে তারা নিরাপদ থাকবে। এজন্য সরকারি বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় অনেক সচেতনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈধভাবে বহির্গমনের হার বেড়েছে। বৈধভাবে বহির্গমনে কাজের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত হয়, তেমনি কর্ম ত্মেগত্রে ঝুঁকি ও মৃত্যুজনিত কারণে নানা সুযোগ-সুবিধা আদায় করা সম্ভব হয়। ফলে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে গমনের সংখ্যা বাড়ছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোও কাজ করছে। ফলে প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হওয়ার ভয়ে অনেকেই যথাযথ অভিবাসন আইন মেনে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছেন। তবে পুরোপুরি নিরাপদ অভিবাসন এখনো নিশ্চিত সম্ভব হয়নি।

"