ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যের হামলায় সহোদরসহ আহত ৩

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার ডিহি ইউনিয়নে পৃথক ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যানের হাতে নবিজ উদ্দিন ও সদস্য সালামের হামলায় সহোদর গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইউপি সদস্যকে চাঁদা না দেওয়ায় তার লোকজন এই হামলা চালায়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এই হামলা ঘটে।

আহত সহোদর কামাল (৪৪) ও জামাল (৪২) শার্শা উপজেলার গোপিনাথপুর বটতলা গ্রামের হাবুল বেপারির ছেলে এবং নবিছ উদ্দিন (৪৮) পাকশী গ্রামের সুলতান খার ছেলে। তাদের স্থানীয় নাভারণ বুরুজবাগান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন সহোদর কামাল ও জামাল হোসেন জানান, তাদের বোন তহুরন নেছার জন্য সম্প্রতি একই গ্রামের আব্বাছের কাছ থেকে ১১ শতক জমি ক্রয় করেন তারা। তবে স্থানীয় প্রভাবশালী ইউপি সদস্য সালাম জমির মালিক আব্বাছকে জমি লিখে দিতে নিষেধ করেন। এর বদলে আমাদের বলেন, ওখান থেকে আমাকে চার শতক জমি নয়তো বা এক লাখ টাকা দিতে হবে। আমরা এ টাকা ও জমি দিতে রাজি না হওয়ায় ইউপি সদস্য সালাম নিজে এবং তার বাহিনীর আকরাম, বাদশা, ছলেমান, সামারুলকে নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন।

আহত সহোদর অভিযোগ করে বলেন, মেম্বার সালাম এভাবে এলাকায় নিরীহ জনগণের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। তারা বলে, আমরা এমপি আফিল সাহেবের লোক, তোরা বেনাপোল মেয়রের দল করিস। তোদের নির্বাচনের পর গ্রামে রাখব কিনা তা ভাবছি।’

জানতে চাইলে ইউপি সদস্য সালাম জানান, তাদের কোনো মারধর করা হয়নি। নিজেরাই মারধর করে আমাদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

অপরদিকে একই ইউনিয়নের পাকশী গ্রামের নবিছ উদ্দিন বলেন, মাঠে খেলা করার সময় একটি ক্রিকেট বল স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হোসেন আলীর ভাইয়ের দোকানে পড়লে চেয়ারম্যান ডেকে তার ভাতিজা রনিকে মারধর করে। ভাতিজাকে মারার প্রতিবাদ করলে হোসেন চেয়ারম্যান তাকে আটকিয়ে বেধড়ক মারধর করে সারা শরীর রক্তাক্ত করে।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান হোসেন আলী বলেন, আমি তাকে কোনো মারধর করিনি। ঘটনার ১ ঘণ্টা পর আমি ঘটনাস্থলে যাই।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম মশিউর রহমান বলেন, এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"