নবাবগঞ্জে স্বামী-স্ত্রী প্রতারণা ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি

ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে স্থানীয়দের প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন মো. সোহেল (৩০) নামে এক যুবক। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ফারজানা আক্তার। এই ঘটনায় স্থানীয় থানা ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগিরা।

অভিযুক্ত সোহেল কুমিল্লার হারায়পাড়ার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে। আর ফারজানা লক্ষীপুরের রামনগর থানার ডলটা বাজারের জায়ানগর গ্রামের আবুল খায়েরের মেয়ে।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় এক যুগ আগে নবাবগঞ্জ উপজেলার নতুন বান্দুরায় বসবাস শুরু করেন সোহেল-ফারজানা দম্পতি। ভদ্র আচরণ ও সবার সঙ্গে মিশতে পারার মাধ্যমে মানুষের বিশ্বস্ততা অর্জন করেন তারা। এই সুযোগে প্রতারণা জাল বিস্তার করেন এই দম্পতি।

ভুক্তভোগিরা জানান, সোহেল প্রথমে একটি হোটেলে কাজ করলেও কিছুদিন পর রিকশা চালাতেন। এছাড়া বিশ্বস্ততার সঙ্গে মানুষের যেকোনো কাজ করে দিতেন। এভাবেই মানুষের কাছাকাছি চলে আসে তিনি। কয়েক মাস আগে থেকে অটোগাড়ি, রিকশাসহ গাড়ির ব্যবসা শুরু করেন ।

প্রথমে নতুন বান্দুরার ব্যবসায়ী বিপ্লব মাহমুদের কাছ থেকে মূলধন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে সোহেল। ব্যবসায় লাভ হওয়ায় মূলধন বাড়াতে থাকে। এভাবে প্রায় ১০-১২ জনের কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। ব্যবসায়িক কৌশল হিসেবে টাকা লগ্নির কথা গোপন রাখার অনুরোধ করেন। এভাবে পুরুষ ছাড়াও, না অনেক নারী ও গৃহবধূর কাছ থেকে মুনাফা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেন।

এদিকে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যান সোহেল। এরপর থেকে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল বন্ধ রয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগীরা নবাবগঞ্জ থানা ও র‌্যাবের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বিপ্লব মাহমুদ বলেন, ওকে এলাকার সবাই খুব বিশ্বাস করত। আমাদের অনেক বড় লেনদেন ওর হাত দিয়ে হয়েছে। কখনো ভাবতে পারিনি ও এই কাজটা করবে। আমাকে নিঃস্ব করে পালিয়ে গেছে সে।

আরেক ভুক্তভোগী মীর নাহিদ বলেন, ব্যবসার কথা বলে আমার কাছ থেকে প্রায় ২ লাখ টাকা নেয়। দিব, দিচ্ছে বলে কয়েক দিন ঘুরানোর পর হঠাৎ বৌকে নিয়ে লাপাত্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধু বলেন, আমাকে বোকা বানিয়ে দেড় লাখ টাকা নিয়েছে ব্যবসার কথা বলে। স্বামীকে না জানিয়ে ওকে টাকা দিয়েছিলাম। এখন আমার ঘর ভাঙার উপক্রম। ফারজানার চাচাত ভাই মামুনের বলেন, সোহেলের শ্বশুর অসুস্থ নয়। আর সোহেল ও ফারজানা আমাদের বাসায় আসেনি। ওদের মোবাইল বন্ধ বলে জানান তিনি।

"