মাধবপুরে মোটরসাইকেল চালিয়ে স্বাবলম্বী বেকার যুবক

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলাটি সীমান্তবর্তী উপজেলা হওযায় একে সিলেট বিভাগের প্রবেশ দ্বার বলা হয়। আধুনিক সভ্যতার সঙ্গে তালমিলিয়ে সীমান্তবর্তী এ উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্রটাও পাল্টে গেছে।

সীমান্তবর্তী মাধবপুর উপজেলার বেশির ভাগ লোকজন স্থল পথেই চলা ফেরা করেন। এই সুযোগে শত শত বেকার যুবকের কর্ম সংস্থানের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে ভাড়া চালিত মোটর সাইকেল। শুনতে অবাক লাগলেও মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহন করে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলেছেন মাধবপুর উপজেলার বহু তরুণ।

সরেজমিনে দেকা যায়, হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী উপজেলা গুলোর সঙ্গে মাধবপুরবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থাও হয়ে ওঠেছে সহজ। যেখানে পরিবারের বোঝা হয়ে ছিল শত শত বেকার যুবক তারা আজ স্বাবলম্বী। ভাড়া চালিত মোটরসাইকেল এ যাত্রী পরিবহন কর্ম হিসাবে বেছে নেওয়ায় আজ তারা মুক্ত হয়েছে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে। একেকটি মোটরসাইকেল যেন হয়ে উঠেছে একেকটি পরিবারের জীবিকা নির্বাহের উপায়।

উপজেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী চৌমুহনী বাজারে গেলেই দেখা মিলে সারিবদ্ধ ভাবে করে রাখা ভাড়া চালিত মোটর সাইকেল। এখান থেকে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌছে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে শত শত যুবক। সিএনজি, রিক্সা, ইজিবাইক থেকে যাত্রীরা নামলেই এগিয়ে আসে মোটরসাইকেল চালকরা। যাত্রীর সঙ্গে ভাড়া সংক্রান্ত আলোচনায় মধ্যস্থতার পর এখান থেকে বাইকে করে যাওয়া যায় সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোসহ আশে পাশের যে কোন এলাকাতে।

উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম গুলোতে যাওয়ার রাস্তা কাঁচা হওয়ায় সাধারণত মোটরসাইকেল ছাড়া আর কোন ভারি যান সেই গ্রাম গুলোতে যেতে পারেনা। আবার দ্রুত সময়ে নিদির্ষ্ট গন্তব্যস্থলে পৌছা যায় বলে যাত্রীদের কাছে যাতায়াতের অন্যতম একটি প্রিয় মাধ্যম হয়ে ওঠেছে মোটরসাইকেল। উপজেলার চৌমুহনী বাজার থেকে সীমান্তবর্তী রামনগর গ্রামে যাওয়ার পথে কথা হয় মোটরসাইকেল চালক আপন মিয়ার সাথে। কথায় কথায় উঠে আসে তার জীবনের গল্প। সে বলে আগে আমি বেকার ছিলাম, আমার এক বন্ধু নিজের মোটরসাইকেল ভাড়া চালাত। প্রায় সময় সে আমাকে বলত বেকার থেকে লাভ কি একটা মোটরসাইকেল কিনে, ভাড়ায় চালা দিন শেষে অন্তত ২০০-২৫০ টাকা আয় হবে। আমার বন্ধুর সহযোগিতায় একটা পুরাতন মোটরসাইকেল কিনে কয়েক দিন চালানোর পরে প্রতিদিন খরচ বাদে ২০০-৩০০ টাকা বা কোন কোন দিন ৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হত। এভাবে যাত্রী পরিবহনের আয় দিয়ে সংসার চালিয়েও কিছু টাকা সঞ্চয় হয়। পরে পুরাতন মোটরসাইকেলটি বিক্রি করে ও জমানো কিছু টাকা দিয়ে নতুন একটা মোটরসাইকেল কিনি। উপজেলার শত শত বেকার যুবকের বেঁচে থাকার আশ্রয় হয়ে ওঠেছে মোটরসাইকেল।

"