বকশীগঞ্জের তিন সরকারি দফতরে এক কর্মকর্তা

স্থায়ীভাবে কর্মকর্তা না থাকায় কার্যালয়টি অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের বকশীগঞ্জে একজন কর্মকর্তা দিয়ে চলছে গুরুত্বপূর্ণ ৩ দপ্তরের কার্যক্রম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম একাই ৩ পদে দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে তিন দফতরেই ভোগান্তিতে পড়ছে কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা লোকজন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পৌর প্রশাসক দিয়ে চলছে বকশীগঞ্জ পৌরসভার কার্যক্রম। পাশাপাশি সহকারী কমিশনারের (ভূমি) পদটি দীর্ঘ প্রায় ৬-৭ মাস ধরে শূন্য রয়েছে। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তার নিজের পদসহ সহকারী কমিশনারের (ভূমি) ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। এতে নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। পৌরসভায় জন্ম, মৃত্যুর সনদপত্রসহ বিভিন্ন কাগজপত্র তুলতে গিয়ে নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

একই অবস্থা ভূমি অফিসেও। স্থায়ীভাবে সহকারী কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা না থাকায় নামজারি ও ভূমি খারিজ সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ।

এ ব্যাপারে পৌর শহরের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ লায়ন বলেন, পৌরসভা থেকে যে ধরনের নাগরিক সুবিধা পাওয়ার কথা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ। স্থায়ীভাবে কর্মকর্তা না থাকলে কার্যালয়টি অভিভাবকহীন হয়ে পড়ে। অনেকেই ট্রেড লাইসেন্স, জন্মসনদ, মৃত্যুসনদসহ প্রয়োজনীয় কাজে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয় কর্মকর্তার স্বাক্ষরের অপেক্ষায়।

এ ব্যাপারে পৌর সচিব নুরুল আমিন বলেন, ইউএনও স্যার পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিয়মিত অফিসে না বসলেও মাঝে মধ্যে আসেন এবং পৌর কার্যক্রমের তদারকি করেন। এতে করে নাগরিক সেবায় কোনো প্রকার বিঘœ ঘটছে না বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে ভূমি অফিসে নামজারি করতে আসা মেরুরচর গ্রামের রাশেদুজ্জামান বলেন, নামজারি করার জন্য বেশ কয়েকদিন ধরে ঘুরছি। সমস্ত কাজ শেষ। কিন্তু ভূমি কর্মকর্তার স্বাক্ষরের জন্য খারিজটি পাচ্ছি না।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো.আবদুল গনি বলেন, ৬-৭ মাস ধরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি শূন্য। ইউএনও স্যার এই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ইউএনও স্যার না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। এতে মাঝে মধ্যে ভোগান্তিতে পড়ে সেবা গ্রহীতারা। তবে জরুরি প্রয়োজনে স্যারের কার্যালয়ে গিয়ে কাজ সেরে নিয়ে আসি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমি উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। তবে এখন পর্যন্ত ৩ দপ্তরের কাজের কোনো সমস্যা অনুভব করিনি।’

"