নোয়াখালীতে ৭ কোটি টাকার ৩২ প্রকল্প

প্রকল্প আছে, কাজ নেই

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালী সদর উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কোনো কাজ না করেই সাত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই টাকা গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দকৃত কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের অন্তর্ভূক্ত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও, প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই অনেক স্থানে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্ষা মৌসুমের কারণে অনেকগুলো প্রকল্প করা সম্ভব হয়নি, প্রকল্পের টাকা রাষ্ট্রীয় ব্যাংকেই আছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সদর উপজেলায় ৩২টি প্রকল্পের মধ্যে সড়ক মেরামতের জন্য কাবিখা প্রকল্পে এক হাজার ১৪০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার দাম ৪ কোটি ৩৪ লাখ ২ হাজার ১১০ টাকা। আটটি সড়ক ও তিনটি খাল সংস্কারের জন্য কাবিটা প্রকল্পে ৩৪০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার দাম ১ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার ৩৪০ টাকা এবং টিআরের ৫১টি প্রকল্পের (সড়ক) বিপরীতে ২৯৫ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার দাম ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭৯৫ টাকা।

সরকারি নিয়মানুযায়ী কাবিখা-কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রকল্পের যাবতীয় তথ্য সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপন করার কথা থাকলেও কোনো নিয়ম মানা হয়নি। এদিকে ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করার নির্দেশনা থাকলেও এসব প্রকল্পের কোনো কাজ করা হয়নি। বরং প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে কাগজে-কলমে। কিন্তু কাজ না হলেও বরাদ্দকৃত কাবিখা-কাবিটা ও টিআর বাস্তবায়ন দেখিয়ে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দকৃত সাত কোটি টাকা (প্রায়) ভুয়া মাস্টাররোলের মাধ্যমে তুলে আত্মসাৎ করা হয়। সম্প্রতি উপজেলার কাদির হানিফ, দাদপুর, বিনোদপুর ইউনিয়নের কয়েকটি প্রকল্প ঘুরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের সড়ক সংস্কারের অনুকূলে কাবিখার ১৬০ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। সরেজমিন এসব প্রকল্পের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিনোদপুর ইউনিয়নে সাতটি প্রকল্পের অনুকূলে ২১ টন টিআর বরাদ্দ দেওয়া হয়। ওই সাত প্রকল্পেরও কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে চরমটুয়া ইউনিয়নের চারটি প্রকল্পের অনুকূলে ১৬০ টন কাবিখা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো কাজ করা হয়নি। এভাবে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের যেসব ইউনিয়নে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সে সব ইউনিয়নে কোনো কাজ না করেই ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কাদির হানিফ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুর রহিম জানান, এ সব কাজের খবর নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রয়েছেন। একই বিষয়ে বিনোদপুরের ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ‘পরে কথা বলবো’ বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ‘বর্ষা মৌসুম হওয়ার কারণে অনেকগুলো প্রকল্পের কাজই করা হয়নি। তবে প্রকল্পের টাকাগুলো আমাদের ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে কাজ করে টাকা ছাড় দেওয়া হবে।’ কাজ না করে টাকা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখার বিধান রয়েছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাব তিনি এড়িয়ে যান।

জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তš§য় দাস জানান, এসব প্রকল্পের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"