বিলুপ্তির পথে বাউফলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

বিভিন্ন প্রতিকূলতার কারণে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে পটুয়াখালীর বাউফলের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য মৃৎশিল্পীদের বাসস্থান। যা পালপাড়া নামে পরিচিত।

এক সময় উপজেলার এসব গ্রামগুলো মৃৎশিল্পের জন্য খুবই বিখ্যাত ছিল। মৃৎশিল্পের সামগ্রী দেশের বিভিন্ন এলাকাসহ দেশের বাহিরেও পাঠানো হতো। কিন্তু বিভিন্ন প্রযুক্তির উন্নয়ন ও নতুন শিল্প সামগ্রীর প্রসারের কারণে এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজারে সঠিক মূল্যে না পাওয়ায় এ শিল্প আজ বিলুপ্তির পথে।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পালপাড়ায় ঘুরে জানা যায়, বর্তমান বাজারে এখন আর আগের মতো মাটির জিনিসপত্রের চাহিদা না থাকায় এর স্থান দখল করে নিয়েছে অ্যালোমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের জিনিসপত্র। ফলে বিক্রেতারা মাটির জিনিসপত্র আগের মতো তৈরি না করে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তাদের চাহিদা নির্ভর করে ক্রেতাদের ওপর। কিন্তু উপজেলার পাড়াগাঁয় এখন আর মাটির হাঁড়ি-পাতিল তেমনটা চোখে পড়ে না। সে কারণে অনেক পুরনো শিল্পীরাও পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হচ্ছেন। যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মাটির জিনিসপত্রের পুরনো ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে। ফলে একমাত্র অবলম্বন মৃৎশিল্প পেশায় সঙ্গে জড়িত জীবিকা নির্বাহকারীদের তাদের জীবনযাপন একবারেই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

দুঃখ-কষ্টের মাঝে দিন কাটলেও বাউফলের মৃৎশিল্পীরা এখনো স্বপ্ন দেখেন। কোনো একদিন আবারও কদর বাড়বে মাটির এসব পণ্যের। আর সেই সুদিনের অপেক্ষায় দিন-রাত নারী-পুরুষ একত্রে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার মৃৎশিল্প সমবায় সমিতির সভাপতি বিশ্বেশ্বর পাল, সম্পাদক গোবিন্দ্র পাল, বিউটি রানী পাল ও রিণা রানী পাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদী-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আগের মতো মাটি সংগ্রহ করতে পাচ্ছেন না মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা। ফলে বেশি টাকা খরচ করে মাটি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। এ ছাড়াও জ্বালানির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় মাঝে মাঝে উৎপাদিত জিনিসপত্র বিক্রি করতে গিয়ে তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

তারা দাবি করেন মৃৎশিল্পের সঙ্গে ৬০০ পরিবার কাজ করে। তাদের আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিল্পকর্মে প্রশিক্ষিত করে তুলতে হবে। সময়োপযোগী জিনিসপত্র তৈরি করা এবং ঢাকায় একটি মৃৎশিল্পের জিনিসপত্র বিক্রির জন্য নিদিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ করতে হবে। এ ছাড়াও বিদেশে এসব পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

 

"