ভেজাল ধানবীজ ও সারে প্রতারিত কৃষক

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

শামসুজ্জোহা সুজন, ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম)

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ইটের গুঁড়া ও কেমিকেল দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে দানাদার কীটনাশক। দেশের নামিদামি কোম্পানির প্যাকেটে নিম্নমানের ধানবীজ ও সার ঢুকিয়ে বাজারজাত করে প্রতারিত করা হচ্ছে কৃষকদের।

গত রোববার সন্ধ্যায় ভ্রাম্যমাণ আদালত এক দোকানে অভিযান চালিয়ে নকল কীটনাশক, ধানের বীজ, সার তৈরির সরঞ্জাম, ইটের গুঁড়া, খালি প্যাকেট ও কেমিকেল উদ্ধার করেছে। সুমন বীজ ভান্ডার নামের একটি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন কোম্পানির ধানবীজ, সার ও দানাদার কীটনাশকের প্যাকেট সংগ্রহ করে নিজের তৈরি ভেজাল বীজ, সার ও কীটনাশক ঢুকিয়ে বাজারজাত করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবদুল্লাহ। সে শিলখুড়ি ইউনিয়নের চর উত্তর তিলাই গ্রামের আলাল উদ্দিনের ছেলে। জানা যায়, আবদুল্লাহ প্রায় সাত বছর ধরে ভূরুঙ্গামারী বাজারে এই ভেজাল কৃষিপণ্যের ব্যবসা চালিয়ে স্থানীয় কৃষকদের প্রতারিত করছে। গত রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম অভিযান চালিয়ে ব্রি ধান-২৯, ব্রি ধান-২৮, সুফলা ভারত সিড সুফলা-২৮, হীরা-২, এসিআই-২, হীরা-১, তেজ, ইস্পাহানি-১, ব্যাবিলন-২, ব্রি ধান-৪৯, সম্পদ, তিন পাতা সুপার, দানাদার কীটনাশক বাসুডিন, প্রোকেম, রেকাডিন, ফুরাডান, তাজা, ভিট টাকো, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানির ইউরিয়া সারের খালি বস্তা, বিভিন্ন কোম্পানির ধান বীজের খালি প্যাকেট, প্যাকেটকরণ মেশিন, দানাদার কীটনাশক তৈরির কাজে ব্যবহৃত ইটের গুঁড়া, কেমিকেল ও বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ তরল কীটনাশক উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী ঢাকা থেকে এসব খালি প্যাকেট ও বস্তা এনে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নিম্নমানের ধানের বীজ, নিজের তৈরি দানাদার কীটনাশক ও নিম্নমানের সার ঢুকিয়ে বাজারজাত করে আসছে।

কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, সুমন বীজ ভান্ডার থেকে একজন ক্রেতা ভিট টাকো কিনে তার সন্দেহ হলে কৃষি দফতরে যোগাযোগ করে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ইউএনওর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

ইউএনও এস এইচ এম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উল্লেখিত নকল ও ভেজাল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এদিকে, ভুক্তভোগীরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, এত বড় প্রতারণার শাস্তি মাত্র ৩০ হাজার টাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

 

"