রাজবাড়ীতে পদ্মা ও আলফাডাঙ্গায় মধুমতীর ভাঙনে দিশাহারা মানুষ

* ভাঙন আতঙ্কে ৩০০ পরিবার * হুমকিতে শহররক্ষা বেড়িবাঁধ

প্রকাশ : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের ধুঞ্চি গোদার বাজার, সোনাকান্দর সাধুর বটতলা সংলগ্ন এলাকায় শুরু হয়েছে নদী ভাঙন। ভাঙছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি। নিঃশ্ব হচ্ছে নদী তীরবর্তী মানুষ। ইতোমধ্যে ধুঞ্চি গোদার বাজার এলাকা থেকে সোনাকান্দর পর্যন্ত ২.৫ কিলোমিটার সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধা ৩০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে।

তা ছাড়াও হুমকিতে রয়েছে নদী পাড়ে থাকা চর ধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও এলাকার একমাত্র মসজিদটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। স্রোতের তীব্রতায় শহররক্ষা বেড়িবাঁধের গোদারবাজার থেকে সোনাকান্দর সাধুর বটতলা পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মিটার এলাকা ব্যাপক ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় পদ্মার হিংস্র থাবায় গ্রামটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। ওই এলাকায় বসবাস করা ৩০০ পরিবার এখন ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

এলাকাবাসী জানান, গত কয়েক বছরে মিজানপুর ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ড নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। ওইসব অঞ্চল থেকে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে তারা ৩-৪ বছর আগে এ গ্রামে বাড়ি করেছিলেন আজ সেটিও নদীগর্ভে বিলিন হতে শুরু করেছে।

নদী ভাঙনের শিকার হওয়া মো. মোজাহার বলেন, ভাঙতে ভাঙতে বাপদাদার বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এ নিয়ে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হলাম এখন আর কিছু নেই যা ছিল সব নদীর পেটে। এখন রাস্তার কোলে ছাড়া আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটাতে হয়।

ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়বে শহররক্ষা বেড়িবাঁধ। পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে এ ভাঙন দেখা দেয়। ভাঙনের ফলে আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পাথরের বোল্ডার দ্বারা পাইলিং করা থাকলেও স্রোতের তোরে বোল্ডারগুলো ধসে যাচ্ছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে দু-এক দিনের মধ্যেই শহররক্ষা বাঁধ হুমকিতে পড়বে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।

চর ধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলেনা সুলতানা জানান, আমার এই স্কুলটি নদীর অতি নিকটে তাই এই স্কুলটি মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। ভাঙন শুরুর হয়েছে এমন খবর পেয়ে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসছে না। অভিভাবকরাও বাচ্চাদের স্কুলে আসতে দিচ্ছে না। তাই যতটুকু সম্ভব এই ভাঙন রোধ করা জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. জিয়াউর রহমান জানান, এর আগে স্কুলটি দুইবার ভাঙনের কবলে পড়েছিল। সেখান থেকে বর্তমানে এই স্থানে আনা হয়েছে। এই স্থানও যদি ভেঙে যায় তাহলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো আর জায়গা থাকবে না। স্কুলটি নদীগর্ভে বিলিন হলে কয়েক শত ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মির্জানপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আতিয়ার রহমান জানান, রাজবাড়ীর জেলার সব থেকে বড় মিজানপুর ইউনিয়নটি প্রতি বছর নদী ভাঙনের ছোট হয়ে যাচ্ছে। এভাবে যদি ভাঙতে থাকে তাহলে এক সময় দেখা যাবে মিজানপুর ইউনিয়ন নামে আর কোনো ইউনিয়ন থাকবে জেলার মানচিত্রে। তাই আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে অনুরোধ জানাই দ্রুত এ ভাঙনের হাত থেকে এই মিজানপুর ইউনিয়নকে বাঁচাতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে গোদারবাজার এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত রোববার সকাল ৮টা থেকে ধুঞ্চি সোনাকান্দর এলাকায় হঠাৎ করেইে ভাঙন দেখা দিয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বালু, বস্তা ও জিও ব্যাগ ফেলানো হয়েছে। আশা করি ভাঙন ঠেকাতে পারব। এ ছাড়াও যেখানে ভাঙবে সেখানেই ব্যবস্থা নিব এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এদিকে, ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার মধুমতি নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। ভাঙন কবলিত বাজড়া পশ্চিমপাড়া এলাকায় বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী।

কৃষক লীগের সহসভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আরিফুর রহমান দোলন ও এলাকাবাসীর আর্থিক সহযোগিতায় এ বালুর বস্তা ফেলানো হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন মধুমতী নদীর ভাঙনের শিকার হচ্ছে বাজড়া, চর আজমপুর, রায়ের পানাইল, চরডাঙ্গা এলাকার মানুষ। মধুমতী নদীর অব্যাহত ভাঙনে এসব এলাকার দেড় হাজার একর ফসলি জমিসহ ৩০-৪০টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এখনই যদি সরকারিভাবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তাহলে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে এসব এলাকার রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

মধুমতী নদীর করাল গ্রাস থেকে বাঁচতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এলাকাবাসী।

 

"