মাদারগঞ্জে বিলুপ্তির পথে দেশীয় প্রজাতির পাখি

কীটনাশকের আগ্রাসন ও গাছপালা উজাড়

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় এক সময় গ্রাম-গঞ্জের মাঠে ঘাটে, গাছে ডালে সবুজ পাতার ফাঁকে জাতীয় পাখি দোয়েলসহ নানা প্রজাতির দেশীয় পাখির বিচরণ ছিল। সকালে পাখির কিচিমিচি ডাকে ঘুম ভাঙত সবার। পাখিদের কলরবে মুখরিত গ্রাম এখন অনেকটাই পাখি শূন্যের পথে। প্রকৃতিকে মোহনীয় করে তোলা পাখির গান এখন আর শোনা যায় না। গ্রাম বাংলার প্রকৃতি থেকে অযতœ অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে এসব পাখি।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে নির্বিচারে গাছ-পালা কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বনে জঙ্গলে গাছের ডালে পাখির দেখার সেই অপরূপ দৃশ্যপট পাল্টে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণ, নির্বিচারে গাছকাটা, জমিতে অধিক কীটনাশক প্রয়োগ, পাখির বিচরণ ক্ষেত্র, শিকার, খাদ্য সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিলুপ্তির পথে দেশীয় নানা প্রজাতির পাখি।

উপজেলায় এখন আর তেমন চোখে পড়েনা, বক, সালিক, ঘুঘু, দোয়েল, বাবুই, টিয়া, টুনটুনি, বালিহাস, চীল, কাক, পানকৌড়ি, কাটঠোকরা, কোকিল, ময়না, পেচা, মাছরাঙ্গা, চড়াই, বুলবুুলি, হুতুমসহ দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন পাখি। শোনা যায় না এসব পাখির কলরব। বর্তমান প্রজন্মেও অনেকেই চেনে না এসব পাখি। দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মৃতির সংক্সেগ জড়িত এসব পাখির ডাক ও সুর মানুষকে মুগ্ধতা ক্রমান¦য়ে হারিয়ে যেতে বসেছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ফসলি জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার অধিকাংশেই দায়ী। কৃষকরা এখন ফসলের জমিতে অতিমাত্রায় কিটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। এতে করে পাখির খাদ্য ফড়িং, প্রজাপতিসহ বিভিন্ন প্রকার কিটপতঙ্গ মরে যায় বা আক্রান্ত হয়। পাখিরাও দিনের পর দিন এসব খেয়ে মারা যাচ্ছে। এছাড়াও পাখি শিকারীদের নিষ্ঠুরতা তো রয়েছেই। কখনো কখনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা ঝড়ে পাখির বাসা ভেঙ্গে মৃত্যু ঘটে বা ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পাখি বিলুপ্তির ঘটনায় যেমনি জীববৈচিত্রের সংকট বাড়ছে তেমনি আমরা হারিয়ে ফেলছি প্রাকৃতিক পরিবেশ।

পরিবেশ রক্ষায় পাখির ভুমিকা অনস্বীকার্য। তাই কেবল মানব জাতির জীবের প্রতি দয়া সহনশীলতা এবং সচেতনতাই রক্ষা পারে স¦াভাবিক বেঁচে থাকা বংশ বিস্তারের সুদৃঢ় ভবিষ্যৎ।

স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় পাখি গ্রাম-গঞ্জের বিলে ঝিলে, ঝোপঝাড়ে, গাছের ডালে মিষ্টিসুরের ধ্বনীতে মুখরিত করত। কিন্তু পাখির ডাক এখন আর সোনা যায়না। তাছাড়া শিকারী ও কীটনাশেকের অধিক ব্যবহারের ফলে পাখি শুণ্য হতে চলেছে বাংলার গ্রামাঞ্চল।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, জমিতে অতিমাত্রায় কিটনাশক ব্যবহারের ফলে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় পাখি মরে যাচ্ছে। আবার খাদ্যসংকট ও আবাসস্থল কমে যাওয়ায় পাখির বংশ বিস্তার কমে যাচ্ছে। জন সংখ্যা বৃদ্ধিতে ফসলি জমিতে গড়ে তোলা হচ্ছে ঘরবাড়ি। এতে কাটা হচ্ছে গাছপালা। এজন্য পাখি রক্ষায় সামাজিক ও প্রশাসনিক সচেতনতা বাড়াতে হবে।

"