সওজের কোটি টাকার জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাকিবুল ইসলাম রাকিব, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া বাজারে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের কোটি টাকা মূল্যের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় তিন প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সওজের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ওই তিন প্রভাবশালী কোটি টাকার জায়গা দখল করে নির্বিঘেœ ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দখলদার উচ্ছেদে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্থানীয় প্রশাসন ও সওজ কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত ওই তিন দখলদারের দাবি, সওজের ভবন ঘেঁষেই তাদের জায়গা রয়েছে। জায়গা দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন তারা।

স্থানীয় ও সওজ সূত্রে জানা গেছে, ষাঁটের দশকে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে কলতাপাড়া বাজারে প্রায় তিন শতক জমির ওপর চৌকিদার শেড নির্মাণ করে তৎকালীন সিঅ্যান্ডবি (বর্তমান সওজ)। পাকা ভবনে নির্মিত চৌকিদার শেডটিতে সওজের নির্মাণ শ্রমিকরা থাকতো। ১৯৮৬ সাল থেকে এই চৌকিদার শেডটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিন বছর আগে উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নের নন্দীগ্রামের দুই ভাই নাজিম উদ্দিন ও শামছুল ইসলাম ও চুড়ালি গ্রামের আব্দুল হেকিম ওই চৌকিদার শেডটি দখল করে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা শুরু করেন।

গত শনিবার সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, চৌকিদার শেডটির পাকা ভবন দখল করে একপাশে নাজিম উদ্দিন মুরগির দোকান দিয়েছেন। মাঝখানের অংশ দখল করে চায়ের দোকান শামছুল ইসলামের। অপরদিকে পাকা ভবনের একাংশ সংস্কারের পাশাপাশি টিনের চালা নির্মাণ করে হার্ডওয়্যায়ের দোকান নির্মাণ করেছেন আব্দুল হেকিম। বর্তমানে ওই দোকান দেখভাল করছেন তার ছেলে আশরাফুল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দখলদার নাজিম উদ্দিন বলেন, সিঅ্যান্ডবির ভবনটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ঈশ্বরগঞ্জ সওজের এক কর্মকর্তা আমার বোন জামাইকে এখানে দোকান করতে বলেছিলো। কিন্তু উনি ভয় পেয়ে দোকান নির্মাণ না করায় আমরা দুই ভাই দোকান করেছি।

অপর দখলদার আব্দুল হেকিমের ছেলে আশরাফুল বলেন, সিঅ্যান্ডবির এই ভবনের পাশেই আমাদের জায়গা রয়েছে। তাছাড়াএটি খালি পড়ে থাকায় আমরা সংষ্কার করে দোকান করেছি। সিএন্ডবি জায়গা চাইলেই দিয়ে দিবো। দখলের অভিযোগ সত্য নয়।

ঈশ্বরগঞ্জ সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) উপসহকারী প্রকৌশলী বাবুল হোসেন বলেন, কলতাপাড়া বাজারে আমাদের একটি পাকা ভবনের চৌকিদার শেড পরিত্যাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। তবে ভবনটি দখল হয়ে গেছে কিনা জানিনা। খোঁজ নিয়ে দখলদারদের উচ্ছেদের জন্য নোটিশ করা হবে।

কিশোরগঞ্জ সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুল আলম বলেন, সওজের জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। যারা সরকারি জায়গা দখল করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"