ঠাকুরগাঁওয়ে ঠিকাদারি কাজে নদীর বালু উত্তোলনের অভিযোগ

* নদীর সেতু, তীর সংরক্ষণ বাঁধসহ আশপাশের স্থাপনা ধসে পড়ার আশঙ্কা * টাঙ্গন নদী থেকে বালু তোলার জন্য ঠিকাদার পাউবোর কাছ থেকে অনুমতি নেয়নি

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. শাকিল আহমেদ, ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও শহরের টাঙ্গন নদীর তীরে জেলা রেজিস্টার কার্যালয়ের নির্মাণাধীন ভবনের জমি ভরাট করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাঙ্গন নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে বালু তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নদীর ওপরের সেতু, তীর সংরক্ষণ বাঁধ ও আশপাশের স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে টাঙ্গন নদীর পাড়ে গিয়ে দেখা যায়, শহরের জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের পাশে গণপূর্ত বিভাগের তত্ত্বাবধানে ঠাকুরগাঁও জেলা রেজিস্টারের কার্যালয়ের নির্মাণের কাজ চলছে। ওই ভবনের জমি ভরাটের জন্য গত ১৫ আগস্ট থেকে টাঙ্গন নদীর ওপরের সেতুর ২০-৩০ ফুট উত্তরে তীর সংরক্ষণ বাঁধের পাশে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত খনন যন্ত্র বসিয়ে বালু ভরাট শুরু হয়।

ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলা রেজিস্টারের কার্যালয় নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঢাকার শিকদার কনস্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের চুক্তি হয়। চুক্তির পর ঠিকাদারের লোকজন ভবনের কাজ শুরু করেন। এখর তারা প্রায় এক মাস ধরে টাঙ্গন নদীতে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে বালু তুলে ভবনের জমি ভরাট করছেন।

নদী থেকে বালু তোলার কাজে ব্যস্ত গুমিক আব্দুল হক বলেন, ঠিকাদারের লোকজন আমাদের বালু তুলতে বলেছেন। আমরাও তাদের কথামত কাজ করছি। কাজ শেষ হতে আরও সপ্তাহ খানেক লাগবে। ড্রেজারের মাধ্যমে বালু তোলা হলে ২০ থেকে ২৫ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়। এই ড্রেজারের তলায় কমপক্ষে ২০ ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

শহরের জলেশ্বরীতলা মহল্লার বাসিন্দা জহির ইসলাম বলেন, ঠিকাদার জমি ভরাটের খরচ সাশ্রয় করার জন্য টাঙ্গন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তুলে প্রকল্পের জমি ভরাট করছেন। অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার কারণে নদীর ওপরের সেতু, নদীর তীরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের ক্ষতি হতে পারে।

একই মহল্লার বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন বলেন, নদীর তীর ঘেঁষে খননযন্ত্র দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলা হলে নদীর সেতু, তীর সংরক্ষণ বাঁধসহ আশপাশের স্থাপনা ধসে পড়তে পারে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জাহিদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে নদী থেকে বালু তোলা হলে আশপাশের স্থাপনার কোনো ক্ষতি হবে না।

ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আল মামুন হক বলেন, ঠিকাদার কোথা থেকে মাটি এনে জমি ভরাট করলেন তা তাঁদের দেখার বিষয় নয়। তবে এতে যাতে অন্য কোনো স্থাপনার ক্ষতি না হয় সেটা দেখা হবে।

ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, নদের তীর ঘেঁষে খননযন্ত্র দিয়ে গভীর করে বালু তোলা হলে নদীর সেতু, তীর সংরক্ষণ বাঁধসহ আশপাশের স্থাপনা ধসে পড়তে পারে। টাঙ্গন নদী থেকে বালু তোলার জন্য ঠিকাদার তাঁদের কাছ থেকে অনুমতি নেননি। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

"