খরস্রোতা কুমারখালী খাল মৃতপ্রায়, হয় না জোয়ার-ভাটা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

জুয়েল রানা লিটন, নোয়াখালী

নোয়াখালী সদরের ধর্মপুরের ওপর দিয়ে প্রবাহমান খর¯্রােতা কুমারখালী এখন মৃতপ্রায়। এক সময় সকাল-সন্ধ্যায় জোয়ার-ভাটা হলেও গত এক যুগেরও অধিক সময় জোয়ার-ভাটা হয় না এ খালে।

জানা যায়, খালটির বিভিন্ন স্থানে মধ্যভাগের তলদেশ মাটি ভরাট ও দখলদারিত্বের ছোবলে অস্থিত্বশূন্য হয়ে যাওয়ায় জোয়ার-ভাটার প্রভাব পড়ে না এ খালে। ফলে এটি মরা খালে পরিণত হয়েছে। পানি না থাকায় এ খালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আশপাশের কৃষিব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির শিকার হচ্ছেন নিরীহ কৃষক। এদিকে সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের বাড়িঘরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

স্থানীয় আফলাতুন মিয়া জানান, অনেক সময় খালে জমাট হওয়া বৃষ্টির পানি আশপাশের জমি ও বাড়িঘরেও ঢুকে পড়ে।

স্থানীয় শাহাদাৎ, বাসারসহ অনেকে জানান, একসময় ছোট ছোট বিন্দি জাল ফেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করত এলাকার জনগোষ্ঠী। এখন আর কেউ এ নিয়ে ভাবেন না।

জানা যায়, চাঁদপুর মেঘনার মোহনা থেকে উৎপত্তি হওয়ার পর একেক স্থানে একেক নামে প্রবাহমান খালটি লক্ষ্মীপুর পেরিয়ে জেলার বেগমগঞ্জ ও সদরের ওপর দিয়ে কুমারখালী নামে করিবহাট উপজেলার নোয়াখালী খালে মিলিত হয়ে মেঘনায় পড়েছে। মাত্র দুই যুগ আগেও এ খালে নৌকা চলত। জোয়ারের সময় পানির সঙ্গে আসত ইলিশ। এখন ইলিশ তো দূরের কথা, খালে পানিই নেই।

সূত্র জানায়, পাঁচ বছর আগে এ খালের নামে মৎস্য বিভাগ থেকে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হলেও নামমাত্র কাজের কারণে সবই ভেস্তে যায়। খাল খননের নামে তা লোপাট হয়ে শুধু পাড় পরিষ্কার ছাড়া আর কিছুই হয়নি বলে জানান কৃষক মমিনুল ইসলাম, তরিক আলী, সুজন মিয়া, মানিক লাল ও তাহের মিয়া ।

খালপারের বাসিন্দা অজয় দাস (৬০) প্রতিদিনের সংবাদকে জানান, ছোটবেলায় এ খালে বড় বড় নৌকা ও ট্রলার চলতে দেখেছেন। হাতিয়া থেকে নদীভাঙা অনেক মানুষই নৌকায় করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসতেন এ অঞ্চলে। সেই খাল এখন নালায় পরিণত হয়েছে। তার পরও যতটুকু আছে তা ভালোভাবে খনন করা ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, কুমারখালী খালটি পাউবোর কি না আগে তা দেখতে হবে। যদি তা হয়ে থাকে তাহলে এটি নিয়ে কি করা যায় তা চিন্তা করবেন। তবে সবই শুষ্ক মৌসুমে হবে।

এ বিষয়ে একরামুল করিম চৌধুরী এমপি জানান, সব খালই খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি এ খালটি নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবেন।

"