রানীনগরে ৪০ প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

সুকুমল কুমার প্রামাণিক, রানীনগর (নওগাঁ)

নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে। এতে অভিভাবকরা ওইসব বিদ্যালয়ে পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে অভিভাবকহীন এসব বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক না থাকার সুযোগে সহকারী শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়গুলোর সঠিক পাঠদান পরিবেশ হারিয়ে গেছে বলে অনেকের অভিযোগ। দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকবিহীন উপজেলার কিছু কিছু ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় বছরের পর বছর তাদের ধরে রাখা সুনাম হারাতে বসেছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা, উপজেলায় মোট ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। তবে বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে পাঠদানে কোনো সমস্যা হবে না বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, পড়ালেখা শেখার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রথম হাতেখড়ি হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয়। সরকারি এ বিদ্যালয়গুলো পড়ালেখা প্রদানের সুনাম অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। যার কারণে গ্রামপর্যায়ের অনেক অভিভাবক বর্তমানে তাদের সন্তানদের প্রাইভেট (কেজি) বিদ্যালয়গুলোয় ভর্তি করে দিচ্ছে। তার ওপর অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোয় দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক হচ্ছে একটি বিদ্যালয়ের অভিভাবক আর এ অভিভাবক না থাকায় ওইসব স্কুলের প্রশাসনিক কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে। সহকারী শিক্ষকরাও সঠিকভাবে পাঠদান করায় না। অভিভাবক ছাড়া এসব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা নামকা ওয়াস্তে আসে আর যায়। কারণ দেখার কেউ নেই। ফলে বিদ্যালয়গুলোয় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান কার্যক্রম। অভিভাবকরা এসব বিদ্যালয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া দাবি জানিয়েছে।

রানীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতোয়ার রহমান বলেন, ‘আমি অনেকবার প্রধান শিক্ষকবিহীন এসব বিদ্যালয়ের তালিকা ওপর মহলে পাঠিয়েছি। বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক খুব জরুরি। তবে বিদ্যালয়গুলোয় প্রধান শিক্ষক না থাকার কারণে পাঠদানের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ ওই বিদ্যালয়গুলোয় সংশ্লিষ্ট অফিসের কঠোর নজরদারি রয়েছে।

 

"