বিষখালীর ভাঙনের মুখে দেউরী সাইক্লোন শেল্টার

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মো. রাজু খান, ঝালকাঠি

ঝালকাঠিতে বিষখালী নদীর ভাঙনের মুখে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টার বিলীন হওয়ার পথে। এরই মধ্যে বেজমেন্টের নিচের মাটি সরে গেছে। যেকোনো মুহূর্তে দেবে যেতে পারে ভবনটি। আতঙ্কে স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের আসা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষকরা স্কুলে এলেও সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকেন।

মাত্র চার বছর আগে প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এ সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। এলজিইডি এই পরিস্থিতির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দায়ী করেছে।

ইমারজেন্সি সাইক্লোন রিকভারি অ্যান্ড রিস্টোরেশন প্রজেক্টের আওতায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে পশ্চিম দেউরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন শেল্টারটি নির্মাণ করা হয়। ২ কোটি ১০ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হলেও নির্মাণ ব্যয় হয় ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

ওই সময় ভাঙনকবলিত বিষখালী নদীর মাত্র ১০০ গজের মধ্যে এ ধরনের ভবন নির্মাণে স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাতে ভ্রƒক্ষেপ করেনি।

তখন বলা হয়েছিল, পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভবনটি ভাঙনের চূড়ান্ত ঝুঁকিতে। এরই মধ্যে সংযোগ সড়ক বিলীন হয়ে গেছে, সরে গেছে ভবনের বেজমেন্টের নিচের মাটি। বিলীন হয়ে গেছে স্থানীয় বাজারটিও। ভবনটি এখন শুধু পাইলিংয়ের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়রা দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

ঝালকাঠি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আমীন জানান, ভবনটি নির্মাণের সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড নদী শাসনের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও সেটি শেষ না করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। ঝালকাঠিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আতাউর রহমান জানান, নদীতীরবর্তী সরকাররি স্থাপনা, বিশেষ করে সাইক্লোন শেল্টার, স্কুল-কলেজ স্থানীয় নদীভাঙনের সম্মুখীন হয়েছে। আমরা পর্যবেক্ষণ করে তালিকা তৈরি করছি। যদি জরুরি ভিত্তিতে কাজ করার প্রয়োজন হয়, তাহলে সেটা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাচ্ছি। সদর উপজেলার দেউরী সাইক্লোন শেল্টারের বিষয়ে এরই মধ্যে ব্যবস্থা নিয়েছি। শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে। অন্য স্থানগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

"