পীরগঞ্জের রায়পুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়

ক্লাস বর্জন করে শিক্ষার্থীরা মাঠে, অভিভাবকরা সড়কে

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রংপুর ব্যুরো

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ে ভোটবিহীন ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। আজকের (রোববার) মধ্যে জড়িতদের গ্রেফতার করা না হলে আগামী সোমবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস বর্জনসহ লাগাতার কর্মসূচির হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

গতকাল শনিবার বিদ্যালয় সংলগ্ন বাজার সড়কে অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সমাবেশ করেন। ওই সমাবেশ থেকে আজকের (রোববার) মধ্যে ম্যানেজিং কমিটি বাতিল ও হামলাকারীদের গ্রেফতারে আন্টিমেটাম দেওয়া হয়। একই সময়ে ক্লাস বর্জন করে বিদ্যালয় মাঠে বিক্ষোভ মিছিল শেষে অভিভাবকদের দেওয়া আল্টিমেটামের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পক্ষের লোকজনের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও শিক্ষার্থীসহ ১০ জন আহত হয়।

ওই ঘটনার প্রতিবাদ ও ম্যানেজিং কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন সমাবেশে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মোস্তাফিজার রহমান গোলাপ, ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সহসভাপতি মাহমুদুল হক তুষার, অভিভাবক শরিফুল ইসলাম সবুজ, আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অবৈধ ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু ও পীরগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি খলিলুর রহমান খলিলের নেতৃত্বে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বহিরাগত শতাধিক লোকজন বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীদের দোতলার গেটে তালা দিয়ে আটকে রেখে হুমকি-ধামকি দেয়। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা খলিলুর রহমান ও তার ছোট ভাই খায়রুল ইসলাম খয়বারকে নতুন প্রধান শিক্ষক হিসেবে ঘোষণা করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর হামলা ঘটনাটি ম্যানেজিং কমিটির পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। অবিলম্বে ওই ঘটনায় হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার ও ম্যানেজিং কমিটি বাতিল করা না হলে লাগাতার কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম নান্নু ভোট ছাড়াই ভুয়া কাগজের মাধ্যমে নিজেকে সভাপতি বানিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি।

গেল কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই কমিটি বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। এতে করে ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা।

এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর হামলার ঘটনা অস্বীকার করে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রেজাউল করিম নান্নু বলেন, সব প্রক্রিয়া ঠিক রেখে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে পদ বঞ্চিতরা কয়েকজন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে এসব করাচ্ছেন।

ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মতিন মন্ডল জানান, সেখানে এখনো প্রধান শিক্ষক নিয়োগে কোনো কাগজপত্রে সই করা হয়নি।

 

"