রাস্তা কেটে দখল করে গরুর খামার বর্জ্য দূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে স্থানীয়রা

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আমিনুল ইসলাম, শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সরকারি রাস্তা দখল করে গড়ে উঠেছে একাধিক গরুর খামার। খামারের বর্জ্য অপসারণের জন্য এলজিইডির রাস্তা কেটে তৈরি করা হয়েছে ড্রেন। পাশাপাশি রাস্তার ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে গরুর বর্জ্য। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকাবাসী। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোনো কাজ হয়নি।

উপজেলার ভাগ্যকূল ইউনিয়নের মধ্য-কামারগাঁও অবস্থিত নার্সিং ইনস্টিটিউটের কাছে খাল পাড়ের সরকারি পাকা রাস্তার ওপরে গড়ে তোলা হয়েছে একাধিক গরুর খামার। খামারের বর্জ্য ফেলার জন্য পাকা রাস্তার পাশ দিয়ে খুঁড়ে তৈরি করা হয়েছে ড্রেন। এই নোংরা পানি ও বর্জ্য রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গভীর নলকূপের চারপাশে জমা হচ্ছে। এতে নলকূপের ওপর নির্ভরশীল গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার রয়েছে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে যাচ্ছে। অপর দিকে খামারিরা পাকা রাস্তা কেটে খামারের যাবতীয় আবর্জনা পাশের খাদে নামিয়ে দিচ্ছেন।

স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই খামারের নোংরা পানি জমে রাস্তায় চলাচল প্রায় অসম্ভব করে তুলে। এ ছাড়া জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্ম নিচ্ছে বিষাক্ত মশা-মাছি। ছড়াচ্ছে ম্যালেরিয়া, ডায়েরিয়া, কলেরা, ডেঙ্গুসহ নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ। এ কারণে আশেপাশের মানুষের চলাচলসহ বসবাস করা হয়ে উঠেছে দুর্বিসহ।

এলাকার ভুক্তভোগী রাবেয়া বেগম, আবদুল বাতেন, পাপিয়া রানী, যতিন্দ্র, নিরঞ্জন মন্ডল, টুটুল মন্ডল, কুদ্দুস খানসহ একাধিক স্থানীয় জানান, রাস্তার পাশে গরুর ফার্ম করে বর্জ্য অপসারণের জন্য ড্রেনেজ করা হলেও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় ওই বর্জ্য স্তূপ আকার হয়ে থাকে। এর ফলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে শান্তিপূর্ণ এলাকা বসবাসের অযোগ্য হয়ে পরেছে।

এসব বিষয়ে খামার মালিক ইদ্রিস খান (৬৫), কুদ্দুস খান (৬০) ও সিদ্দিক খান (৪৫) বলেন, ‘এক সময় পরিস্থিতি এমন ছিল না। আমাদের জায়গার অভাব, তাই রাস্তার পাশে খামার নির্মাণ করেছি, সমস্যা কোথায়। রাস্তার পাশে বর্জ্য রাখায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এটা ঠিক, তবে কি করব?’ সরকারি গভীর নলকূপ নোংরা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই কলের পানি পান করতে আমাদেরও সমস্যা হয়। অনেকেই এই কারণে পানি পান করা ছেড়ে দিয়েছে।’ রাস্তা কাটার বিষয়ে তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘রাস্তাটি আমরা কাটিনি, রাস্তা কেটেছে পাশের খামার মালিক আনন্দ ঘোষ (৪৫)।’

পাশের খামারি আনন্দ ঘোষ বলেন, ‘কি করব, এক সময় এখানে খাল ছিল। কিছু লোক খালে বালু ভরাট করে ফেলায় আমাদের এই সমস্যা হয়েছে। খাল থাকলে এই ধরনের সমস্যা হতো না।’

জানতে চাইলে স্থানীয় চেয়ারম্যান কাজী মনোয়ার হোসেন (শাহাদাত) বলেন, ‘বিষয়টি লোকজন আমাকে জানিয়েছে। কিন্তু নানা জটিলতা থাকায় আমার পক্ষে হস্তক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি।’ উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, ‘সরকারি রাস্তা কেটে কেউ নষ্ট করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উপজেলা সেনেটারি ইন্সপেক্টর নাসরিন সুলতানা বলেন, এটা পরিবেশ অধিদফতরের বিষয়, তারপরেও আমি নোটিশ করেছিলাম তারা গ্রহণ করেননি। জেলা পরিবেশ অধিদফতর কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘বায়ো গ্যাস সিস্টেম ও পরিবেশ সার্টিফিকেট ছাড়া কোনো গরুর খামার বৈধ হতে পারে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ শ্রীনগর ইউএনও মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরূপ এমন কোনো কিছুই আমরা বরধাস্ত করব না। তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

"