রাজবাড়ীতে শহররক্ষা বাঁধে ভাঙন ১১০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীতে শহর রক্ষা বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শহর রক্ষা বাঁধের ১১০ মিটার অংশের ব্লক পদ্মা নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ফলে জেলার একমাত্র বিনোদনকেন্দ্রটি পরেছে হুমকির মুখে। যেকোন মুহূর্তে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিনোদনকেন্দ্রটি। এ ছাড়াও আরো প্রায় ২০০ মিটার এলাকাজুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল। ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে হুমকিতে পড়বে শহর রক্ষা বেড়িবাঁধ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে যায় বাঁধের ৬০ মিটার অংশটি। নদীর তীরে অবস্থিত মানুষের একমাত্র বিনোদনকেন্দ্রটি ভাঙনের মুখে পড়ায় রাজবাড়ীবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে দায়ি করে প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হলো শহর রক্ষা বাঁধের ১১০ মিটার অংশ।

গত ২০০৯ সালে ৮৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধে ভাঙন শুরু যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদীর তীরবর্তী এলাকায় থাকা মানুষের। হুমকির মধ্যে রয়েছে রাজবাড়ী শহর। ভাঙনের তীব্রতায় এভাবে বাড়তে থাকলে দুই-এক দিনের মধ্যেই বিলীন হয়ে যাবে নদীর তীরবর্তী বিনোদনকেন্দ্রটি।

গত ০৫ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় ভাঙনকবলিত গোদার বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসানের এমপি আলহাজ কাজী কেরামত আলী। গোদারবাজার বেড়িবাঁধ এলাকার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শনকালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, যেকোনো মূল্যে বাঁচাতে হবে শহর রক্ষা বাঁধটি। তা ছাড়া জেলার একমাত্র বিনোদনকেন্দ্রটি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেলে জনগণের কাছে জবাব দিতে পারব না, তাই এ বিনোদনকেন্দ্রটি রক্ষা করতে হবে জরুরি ভাবে। মন্ত্রী আরো বলেন, বেড়িবাঁধ যদি ভেঙে যায় রাজবাড়ী শহর থাকবে না তাই এ বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে আমরা সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। গত কাল ৪ সেপ্টেম্বর রাত ১২টার দিকে ভাঙনের খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি ভাঙন ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। এ ছাড়াও আমার একান্ত সহকারী রওশনকে পাঠিয়ে ছিলাম যাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সঙ্গে থেকে রাতেই কাজ শরু করতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. শওকত আলী জানান, গত ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং ভাঙন রোধে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আপাতত বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের জন্য তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছি এবং সে মোতাবেক কাজ হচ্ছে।

গত ৫ আগস্ট বুধবার ফরিদপুর পশ্চিম অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এ কে এম ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী সকালে গোদার বাজার এলাকা পরিদর্শন করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার বলেন, ‘ভাঙনের খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। গত ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নদী ভাঙনের তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। ওই দিন ভাঙনে ৬০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাত থেকেই জিও ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলানো শুরু করেছি।’

"