ক্ষেতলালে জঙ্গলে তলিয়ে গেছে বনবিভাগের জীর্ণ ভবন

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

মিজানুর রহমান, ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট)

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা প্রশাসনের বন বিভাগ অফিসটির এখন বেহাল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া ও প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মূল অফিসসহ কর্মকর্তাদের বাস ভবনগুলো জরাজীর্ণ অবস্থা। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ উদাসীন।

উপজেলা পরিষদ চত্তরের ভিতরেই প্রায় ৩ একর জায়গার উপর ১৯৮০ সালে তৈরি হয় বন বিভাগের অফিস। অফিস আয়তনের ভিতরেই সামাজিক বনায়নের অংশ হিসেবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন গাছের চারা তৈরিসহ এলাকার সরকারি গাছ সংরক্ষণ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান নয়। বর্তমানে সংস্কারের অভাবে মূল অফিস সহ অন্যান্য ভবনগুলো পরিত্যাক্ত ও ভূতুরে অবস্থা বিরাজ করছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবেশ পথের মূল ফটকের সামনে আগাছায় ভরা, যা দেখে সাপ, বিচ্ছুর ভয়ে যে কেউ বন বিভাগের সহজে ভিতরে প্রবেশ করবে না। ভয়ভীতিকে উপেক্ষা করে বনবিভাগের ভিতরে প্রবেশ করলেও সেখানে দু-চার প্রজাতির ছোট ছোট পরিত্যাক্ত চারা ও আগাছা ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়বে না। অথচ উপজেলা বন বিভাগের দাবি করেন, বন বিভাগ বছরে প্রায় ৪০ হাজার বিভিন্ন ফলদ, বনজ ওষুধি চারা সরকারি নির্দেশে রাস্তা ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দাতব্য প্রতিষ্ঠানসহ বেরী বাঁধের পার্শ্বে ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় রোপন, বিতরণ করে থাকি।

অনুসন্ধানে জানা যায় উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের বনায়নের জন্য যে চারার চাহিদা, তা পুরনে ওই বনবিভাগে নিজস্ব চারা উৎপাদনের কথা থাকলেও বনবিভাগ কর্মকর্তা বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন নার্সারী থেকে স্বল্প মূল্যের মানহীন চারা সরবরাহ করে চাহিদা পূরণ করছে। মহান মুক্তিযোদ্ধের ৩০ লক্ষ শহীদের স¥রণে বৃক্ষ রোপনের অংশ হিসেবে ক্ষেতলাল উপজেলা বন বিভাগ ৪ হাজর ৫ শতটি বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা বিতরন করলেও তার গুণগত মান নিয়ে জনমনে ক্ষোভ দেখা দেয়।

জানতে চাইলে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) গজেধর রায় জানান, এখানে তিনি সহ আরও দুইজন অফিসার পরিবার সহ বসবাসের কথা থাকলেও বাসভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হওয়াই কেউ বসবাস করতে পারছে না। তারপরেও চাকরির খাতিরে বন বিভাগের মালী মোস্তাফিজার রহমান ও অফিস সহায়ক বেলাল হোসেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবস্থান করছে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কোন অফিস না থাকায় মালীদের ভূতরে ব্যারাকে বসেই তাদের নিয়মিত অফিস করতে হয়। বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ছোঁয়া ক্ষেতলাল উপজেলার সকল দপ্তর স্পর্শ করলেও বন বিভাগ সকল ক্ষেত্রে বঞ্চিত।

"