যমুনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

হুমকির মুখে যমুনা তীর সংরক্ষণ বাঁধ

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

হাসানুজ্জামান তুহিন, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

দীর্ঘদিন ধরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধ। সরকারি বিধি-বিধান উপেক্ষা করে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।

এদিকে গত সোমবার বিকেলে উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের হাটপাঁচিলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকালে একটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। তারপরও থেমে নেই যমুনায় উত্তোলন। রাতে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে ১২-১৩টি কাটিং মেশিন (ড্রেজার) দিয়ে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। দিনে এই বালু ভলগেট পাইপলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে ডাম্পিং করা হয়।

এদিকে যমুনার ভাটি অঞ্চল পাবনার বেড়া উপজেলায় বালুমহাল না থাকলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি প্রতাপশালী চক্র যমুনা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘন ফুট বালু উত্তোলন করছে। এতে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব সরকার। এই বালু ভলগেটের মাধ্যমে প্রতিনিধি শাহজাদপুরের বিভিন্ন স্থানে বালু সরবরাহ করে। এতে স্থানীয় বালুমহালের বৈধ ইজারাদার বিগত অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দরে ইজারা নিয়ে চরমভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

যমুনা তীরবর্তী এলাকাবাসী জানায়, অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে যমুনার বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করায় শত বছরের স্থায়ীত্বের ঘোষণায় নির্মিত বাঁধ ভাটপাড়া, লোহিন্দাকান্দী ও জগতলা ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। একই কারণে উপজেলার হাটপ্রাচীল থেকে যমুনার উজানে এনায়েতপুর পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায়ও নতুন করে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে জলে যেতে বসেছে ১৪০ কোটি টাকার বাঁধ।

বেড়া পাউবো উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একে শহীদুল আলম গত ২২ মে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এশিয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) আর্থিক সহায়তায় এফআরইআরএমআইপি প্রকল্পের আওতায় শাহজাদপুরের হাটপাঁচিল থেকে আহম্মদপুর পর্যন্ত ২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ কাজ চলছে। যমুনা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু এই নির্মাণাধীন বাঁধ কাম সড়কের ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর বন্যা শেষে পেঁচাকোলায় যমুনা ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের প্রায় ১৫০ ফুট নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বেড়া পানি উন্নয়ন বিভাগ প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ধসে যাওয়া অংশের সংস্কার কাজ শেষ করেছে। তবে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোপূর্বেও শাহজাদপুরে যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধের বিভিন্ন পয়েন্ট ধসে যায়।

জানতে চাইলে বেড়া পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হামিদ জানান, ‘যমুনা নদী ভাঙন প্রতিরক্ষা বাঁধের পাশ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীর যেকোনো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন বাঁধের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। নদীর যে স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় তার চারপাশের এলাকা ধসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে জন্য প্রশাসনকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলেই সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।’

"