শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

আমতলীতে স্বাক্ষর জটিলতায় শিক্ষকদের বেতন বন্ধ

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
ama ami

আমতলী মফিজ উদ্দিন বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জটিলতায় দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে শিক্ষকদের। গত সোমবার সকাল থেকে শিক্ষদের একাংশ বেতনের দাবিতে ক্লাস বর্জন কর্মসূচি শুরু করে।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে ২০ জন শিক্ষক এবং সাতজন কর্মচারী রয়েছে। সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবিরকে বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ তাকে ২০১২ সালের ২৬ নভেম্বর বরখাস্ত করেন। তার বরখাস্তের পর থেকে সহকারী শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বরখাস্ত হওয়া সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবির তার বরখাস্তের আদেশ বাতিলের দাবিতে ২০১৩ সালের ১৫ মে উচ্চআদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন। ওই রিট পিটিশনের শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর বিচারপতি মোয়াজ্জেম হোসেন ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর বেঞ্চ তাকে প্রধান শিক্ষক পদে বহালের আদেশ প্রদান করেন। এ অবস্থায় কে বেতন শিটে স্বাক্ষর করবে এই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। গত ২০১৭ সালের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত ৮ মাস ধরে শিক্ষকরা বেতন এবং দুইটি ঈদের বোনাস পাচ্ছে না। দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বেতন না পেয়ে গত সোমবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের আটজন শিক্ষক ক্লাস বর্জন শুরু করেছে। কারিগরি শাখার ক্লাস বর্জনকারী শিক্ষক হোসেনেয়ার বেগম জানান, তারা বেতন বোনাস না পাওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যাবে না। গণিত বিষয়ের শিক্ষক শাহনাজ বেগম জানান, দীর্ঘ আট মাস ধরে বেতন না পেয়ে আমরা খুব খারাপ অবস্থায় আছি। এ অবস্থায় তিনটি ক্লাস ছাড়া বাকি ক্লাসের শিক্ষার্থীরা ক্লাসে বসে গল্প করে সময় পার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের স্যারেরা বেতন পায় না তাই বেতনের দাবিতে তারা ক্লাস বর্জন করেছেন। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেনের জানান, স্কুলের কাজে আমি ঢাকায় অবস্থান করছি। তবে আংশিক শিক্ষকদের ক্লাস বর্জনের বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে বেতন বোনাস দেওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি জাকিয়া এলিচ বলেন, শিক্ষকরা যাতে বেতন বোনাস পায় সে বিষয়ে আমি চেষ্টা করছি। আসা করি শিগগিরই তারা বেতন বোনাস পাবে। আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করা হবে।

"