রংপুরে জমতে শুরু করেছে পশুর হাট

* চাহিদার চেয়ে ৩ লাখ পশু বেশি * দেশি গরু-ছাগলের প্রতি ঝুঁকছেন ক্রেতারা * দাম না থাকায় হতাশ খামারিরা

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আবদুর রহমান রাসেল, রংপুর ব্যুরো

ঈদুল আজহার বেশকিছু দিন বাকি থাকলেও এর মধ্যে জমে উঠতে শুরু করেছে রংপুর বিভাগের কোরবানির পশুর হাটগুলো। বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্রেতারা হাটে গরু আনতে শুরু করেছেন। এখনো ভারতীয় গরু বাজারে না আসায় দেশি গরুর খামারিরা বেশ খুশি। তবে বাজারে গরুর দাম কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন বিক্রেতারা। এদিকে, চাহিদার তুলনায় বিভাগে ৩ লাখ বেশি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। উদ্বৃত্ত এসব পশু দেশে বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বর্তমান বাজার যে গরুর মূল্য তাতে গরু বিক্রি করলে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, মালিক তার পশুটি ঠিকই কম মূল্যে বিক্রি করে দিচ্ছেন কিন্তু দালাল ও ব্যবসায়ীরা সেটি কিনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন উচ্চ মূল্য হাঁকিয়ে।

রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতর সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, পঞ্চগড়, ঠাকুগাঁও এবং দিনাজপুর এই ৮ জেলায় ৫৪ হাজার ২১ জন খামারি ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১টি পশু বাণিজ্যিকভাবে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছে। এছাড়া ২ লক্ষাধিক গৃহস্থ প্রায় ১০ লাখ পশু বাজারে বিক্রি করার জন্য প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে ছাগল ও ভেড়া রয়েছে প্রায় ৩ লাখ। এবারে বিভাগে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ১২ লাখ পশু। অথচ কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে ১৫ লাখ। ফলে অতিরিক্ত ৩ লাখ পশু ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হবে।

রংপুর নগরীর খাসবাগ এলাকার খামারি শহিদুল ইসলাম জানান, আসন্ন কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে ৬০টি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ওই গরুগুলো বিক্রি করলে তাকে অনেক লোকসান গুনতে হবে। তাই এখনো গরু বিক্রি করেননি। তবে ভারতীয় গরু বাজারে না ওঠলে দেশি গরুর দাম বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

সরেজমিনে গিয়ে ঘুরে দেখা যায়, রংপুরের পাওটানাহাটসহ বিভিন্ন হাটে কোরবানির হাটগুলো এবার গতবারের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকৃতির দেশি গরুর চাহিদা অনেক বেশি। দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে থাকায় এবং দেশীয় খাদ্যে লালন-পালন হওয়ায় ওইসব গরুর প্রতি ঝুঁকছেন ক্রেতারা। পাশাপাশি ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন রংপুর বিভাগের হাটগুলোতে। এ মহূর্তে ক্রেতার তুলনায় পাইকারি গরুর ব্যবসায়ীরাই মূলত গরু কিনছেন বেশি। হাটগুলোতে প্রকারভেদে দেশি গরু ৩৫ থেকে দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বুড়িরহাটে গরু কিনতে আসা রংপুর নগরীর ইসলামবাগের বাসিন্দা এস এম মোহসীন জানান, গত বছরের তুলনায় এবার গরুর দাম বেশি। গত দুই হাটে ঘুরেও আমার সামর্থ্যরে মধ্যে গরু কিনতে পারিনি। অথচ এর চেয়ে কম দামে গত বছর গরু কিনেছি। দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে পাওটানাহাটে গরু কিনতে আসা মাহফুজ বলেন, শুনেছি এই হাটে অন্যান্য বাজারের চেয়ে কম দামে গরু পাওয়া যায় তাই এখানে গরু কিনতে এসেছি। এখানে যে দাম তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

বাচ্চা মিয়া ও আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন বিক্রেতা জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার কোরবানির গরুর দাম কম। ক্রেতারা কম থাকায় গরুর দাম উঠছে না। পাওটানাহাট ইজারাদার শাহ্ মো. সামছুল আলম জানান, পাওটানাহাটে দেশি ছোট ও মাঝারি গরু বেশি কেনাবেচা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত হাটে ভারতীয় গরু ওঠেনি। ঈদের আগের দুই হাটে বেশি দেশি গরু বিক্রি হতে পারে বলে আশা করেছেন তিনি। তবে বাজারে গরুর দাম কম থাকার বিষয়টিকে গুজব বলে দাবি করেছেন রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের উপপরিচালক ড. শেখ আজিজুর রহমান । তিনি আরো জানান, চাষিদের কাছ থেকে কম দামে গরু হাতিয়ে নেয়ার জন্য হাটের দালাল ও ব্যবসায়ীরাই মূলত এসব গুজব ছড়ায়। বস্তুত খামারিরা ঠিকই দাম পাচ্ছেন। ঈদ ঘনিয়ে আশার সঙ্গে সঙ্গে গরুর দামও বাড়বে। তিনি বলেন, ক্ষতিকারক কোনো ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে যাতে কোনো খামারি গরু মোটাতাজা করতে না পারে সেজন্য মাঠকর্মীরা দিন-রাত কাজ করছেন।

"