ভূঞাপুরের শতবর্ষী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

মেঝেতে বসে, দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিচ্ছে ২ শতাধিক শিক্ষার্থী

প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ইব্রাহীম ভূঁইয়া, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

আসন সংকটের কারণে ফ্লোরে বসে ও দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে। গতকাল শনিবার দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার দিনে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ অবস্থা দেখা যায়। এতে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিলে পরীক্ষার হলে সাময়িক হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার অভিযোগ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি বারবার অবহিত করেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ পাননি। আর এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বলেন, ‘বেঞ্চ সংকট সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৩৩ জন। শিক্ষক রয়েছে ১৪ জন। শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা ১৪টি থাকলেও দুটি পরিত্যাক্ত ও দুটি রুম ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য মোট বেঞ্চ রয়েছে ১৪৬টি। এতে প্রতি বেঞ্চে দুজন করে শিক্ষার্থী বসার কথা থাকলেও প্রতি বেঞ্চে চার থেকে পাঁচজন করে শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে হয়। পরীক্ষা চলাকালিন সময়ে প্রতি বেঞ্চে তিনজন শিক্ষার্থী বসালেও সব পরীক্ষার্থী বেঞ্চে বসার সুযোগ পায় না। ফলে বাকিদের ফ্লোরে বসে পরীক্ষা দিতে হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গতকাল শনিবার একই সময় সব শ্রেণির দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা ছিল। প্রয়োজনীয় আসন না থাকায় প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থীকে ফ্লোরে বসে ও দাঁড়িয়ে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়তে হয় চড়ম বিপাকে। তাদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সৈয়দ তাহাসান হাবিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে গাদাগাদি করে প্রতি বেঞ্চে ৪-৫ জন বসে লিখতে পারি না। আর পরীক্ষার হলে আমাদের মেঝেতে বসে পরীক্ষা দিতে হয়।’ অভিভাবক শারমিন সুলতানাসহ অনেকে বলেন, একটি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই বেহাল দশা আমরা ভাবতেও পারি না। কর্তৃপক্ষ কেন প্রতিষ্ঠানটির দিকে নজর দেন না সেটাও আমরা বুঝতে পারি না। ভূঞাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ খানম প্রতিষ্ঠানটিতে বেঞ্চ সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘উপজেলার সব বিদ্যালয়ের মধ্যে আমার প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট বরাবরই ভালো। কর্তৃপক্ষকে বেঞ্চ সংকটের বিষয়টি বারবার অবহিত করেও প্রয়োজনীয় সংখ্যক বেঞ্চ পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে ফ্লোরে পরীক্ষা নিতে হচ্ছে।’

"