উখিয়ায় ব্যস্ত সময় কাটছে কামারশিল্পীদের

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উখিয়া দারোগা বাজারে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামারশিল্পীরা। দম ফেলারও সময় পাচ্ছেন না তারা। দিনরাত টুং টাং শব্দে মুখরিত উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারগুলো।

সরেজমিনে গিয়ে উখিয়া সদর দারোগা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় পেশাদার কামারশিল্পীরা মরিচ্যা বাজার, কোটবাজার, সোনারপাড়া বাজার, কুতুপালং রোহিঙ্গা বাজার, বালুখালী বাজার, থাইংখালী বাজার, পালংখালী বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন হাটবাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বঁটি, চাকু, ছোরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করছেন কামাররা। এসব ব্যবহ্নত জিনিস স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাজার থেকে লোহা কিনে সেগুলো আগুনে পুড়িয়ে দা, বঁটি, চাকু, ছোরা, কুড়াল, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরি করছেন কামারশিল্পীরা।

স্থানীয় কামারশিল্পীরা জানান, বর্তমানে বিদেশ থেকে আমদানীকৃত আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ফলে কৃষিকাজে ব্যবহ্নত দেশীয় তৈরি সব পুরনো উপকরণ আর তেমন ব্যবহৃত হচ্ছে না। প্রযুক্তিনির্ভর কৃষিতে লোহার তৈরি পুরনো সব উপকরণের যোগ্যতা এখন আর নেই বললেই চলে। কৃষি উপকরণসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরিতে জড়িত কামারশিল্পীদের প্রায় সারা বছর মন্দাভাব নিয়েই সংসারের গ্লানি টানতে হয়। কিন্তু প্রতি বছর কোরবানির ঈদের আগে এক-দেড় মাস মহাব্যস্ত সময় পার করেন কামারশিল্পীরা।

কামারশিল্পী বাবুল কর্মকার জানান, একসময় লোহা আগুনে পুড়িয়ে দা, বঁটি, কোদাল, খন্তা, সাবল, টেঁটা, কাঁচি, চাকু, ছোরা, কুড়াল, চাপাতিসহ কৃষি উপকরণের বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরিতে কামারদের যথেষ্ট চাহিদা ও কদর ছিল। কিন্তু বর্তমানে সে কদর আর চাহিদা কোনোটাই নেই বললেই চলে। মেশিনের সাহায্যে বর্তমানে আধুনিক যন্ত্রপাতি তৈরি করা হচ্ছে। ফলে কামারদের তৈরি যন্ত্রপাতির প্রতি মানুষ দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। তবে কোরবানির ঈদের সময় আমরা একটু আশাবাদী হই। সারা বছরের তুলনায় কোরবানির ঈদের সময় আয়-রোজগার অনেক বেশি হয়।

এ ব্যাপারে বিভিন্ন হাটের কামারশিল্পীরা জানান, এ পেশায় যারা আছেন তারা খুবই অবহেলিত। বর্তমান বাজার মূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি সে অনুযায়ী তারা কাজের ন্যায্যমূল্য পান না। এই পেশায় থেকে সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হয়। কামারশিল্পীরা মনে করেন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা কিংবা আর্থিক সহযোগিতা না পেলে এ শিল্প হয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে।

 

"