মোড়েলগঞ্জের রাস্তা বেহাল শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ ভোগান্তিতে

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

শাহ আলম তালুকদার, মোড়েলগঞ্জ (বাগেরহাট)

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১২নং জিউধরা, নিশানবাড়িয়া, খাউলিয়ায় এলাকার সাড়ে ৩ কি.মি. রাস্তা চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কর্দমাক্ত এ রাস্তাটি দিয়ে ৭টি প্রতিষ্ঠানের দেড় হাজার শিক্ষার্থীসহ এলাকার জনসাধারণ চলাচল করে। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকাবাসী। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানান, জিউধরা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড একরামখালী গ্রামের রাম হাওলাদারের বাড়ি থেকে খান বাজার পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি গর্তে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও জোয়ারের পানিতে মৎস্য ঘের তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এলাকার ইউসুফিয়া মাদ্রাসা ও একরামখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মীরবাড়ি জামে মসজিদসহ মাদ্রাসা বাজারের কলেজগামী ছাত্রছাত্রীদের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে রাস্তাটি।

ইউনিয়েনের একরামখালীর বাসিন্দা মো. মিজান তালুকদারের অভিযোগে করে বলেন, এলাকবাসী ২ শতাধীক স্বাক্ষর সম্বলিত একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, ১২নং জিউধরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে রাস্তাটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি। এলাকাবাসীর দাবি রাস্তাটি মেরামতসহ ইট দিয়ে স্বলিং করা এবং রাস্তাটিতে একটি পুল নির্মাণের জোর দাবি করেন।

নিশানবাড়িয়া-খাউলিয়া সীমান্তবর্তী এ রাস্তাটি নিশানবাড়িয়ার রাস্তা নামে পরিচিত। জনগুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তাটি সৃষ্টি পরবর্তী কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। ব্যবস্থা করা হয়নি ইট সোলিং কিংবা কার্পেটিংয়ের। দুই ইউনিয়নের টানা পোড়নের এ রাস্তাটি উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। এ রাস্তা দিয়ে নিশানবাড়িয়া তাছেন স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নিশানবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা, খাউলিয়া-নিশানবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দেড় হাজার শিক্ষার্থীরা এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন কাদা-মাটি ভেঙে প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বিশেষ করে শিশুদের কাঁধে ব্যাগ, হাতে স্যান্ডেল আর কাদা থেকে চলাচলে হিমশিম খেতে হয়। অধিকাংশ অভিভাবক বৃষ্টি মৌসুমে তাদের শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে চান না। ফলে বৃষ্টি মৌসুমে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার কমে যায়। বৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীদের ছাতা, বই, ব্যাগ সামলানো কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। ১৭০নং নিশানবাড়িয়া তাছেন স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মতিন মিয়া বলেন, একদিকে রাস্তার কাদা অপরদিকে তার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ বৃষ্টি মৌসুমে জলাবদ্ধতা ও কর্দমাক্ততার জন্য শিশু শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, রাস্তাটি দিয়ে কাদা মাটি ভেঙে হাতে স্যান্ডেল নিয়ে বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে যেতে হয়েছে।

নিশানবাড়িয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শহিদুল ইসলাম জানান, বৃষ্টির মৌসুমে এ রাস্তা দিয়ে মোটরগাড়ি, ভ্যান কিংবা কোনো যানবাহন চলতে পারে না। ফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

 

"