কেশবপুরে মহাকবির মধুপল্লী

চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

জয়দেব চক্রবর্তী, কেশবপুর (যশোর)

যশোরের কেশবপুরে মহাকবি মাইকেল মধুুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর চার দেয়ালে বন্দি হয়ে পড়েছে শিশুদের শিক্ষাব্যবস্থা। খেলার মাঠ নেই। গাছের ভেতর দাঁড়িয়ে সমাবেশে অংশ নিতে হয়। অবস্থা এখন এমন হয়েছে, যেন আমাদের সবকিছু বন্দি হয়ে পড়েছে মধুপল্লীর চার দেয়ালের ভেতর। এভাবেই কথাগুলো জানায় সাগরদাঁড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে গিয়ে সাগরদাঁড়ির মধুপল্লীর ভেতর ওই স্কুলটিতে গিয়ে দেখা যায়, ক্লাস শুরুর আগে পিটি ক্লাস করা হচ্ছে গাছের ভেতরে। নেই কোনো খেলার মাঠ। মন ভরে শিক্ষার্থীরা কোনো খেলাধুলা করতে পারে না। স্কুলটিতে একতলার একটি ভবনে ক্লাস নেওয়া হয়। স্কুলটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৮৮ জন। শিক্ষক রয়েছেন ৮ জন। ভবনের ৪টি কক্ষে পাঠদান করানো হয়। বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের নাম অনুসারে শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকক্ষে পঞ্চাশ ও দ্বিতীয় শ্রেণি, নজরুল কক্ষে চতুর্থ ও শিশু, শরৎচন্দ্র কক্ষে তৃতীয় ও প্রথম শ্রেণির পাঠদান করানো হয়। মধুসূদন কক্ষটি শিক্ষকদের অফিস রুম হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান বলেন, চতুর্থ শ্রেণির জয় কু-ু, তৃতীয় শ্রেণির প্রজ্ঞা, রাখি, তামিম, তন্দ্রা দাস, অন্তর, বীজয় হালদারের সঙ্গে কথা হয়। তরা সবাই বলেন, স্কুলের নেই কোনো খেলার মাঠ। নেই সমাবেশের জায়গা। কোনো খেলাধুলা করা যায় না। বল নিয়ে খেলতে গেলে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হতে হয়। শিক্ষার্থী প্রজ্ঞা, তামিম, জয় কু-ু বলেন, তাদের শিক্ষা নিতে হয় মধুপল্লীর ভেতর থেকেই। শিক্ষার্থীরা আরো জানায়, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাসহ তাদের সবকিছুই যেন মধুপল্লীর চার দেয়ালের ভেতর বন্দি হয়ে পড়েছে। এ অবস্থা আর ভালো লাগে না। স্যারদের মুখ থেকে শুধু শুনি তাড়াতাড়ি স্কুল মধুপল্লীর বাইরে স্তানান্তরিত হবে। কিন্তু কবে হবে আর কবে আমরা মন ভরে খোলা জায়গায় খেলাধুলা করতে পারব, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

সাগরদাঁড়ির মধুসূদন একাডেমির পরিচালক মধুসূদন গবেষক কবি খসরু পারভেজ বলেন, শিক্ষার্থীদের মন বিকাশে দ্রুত স্কুলটি মধুপল্লীর বাইরে স্থানান্তর করা উচিত।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নেছা বলেন, স্কুলটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৮৮ জন। শিক্ষক আছেন ৮ জন। ভবনের ৪টি কক্ষে পাঠদান করানো হয়। বিভিন্ন কবি ও সাহিত্যিকদের নামকরণে শ্রেণিকক্ষের নামকরণ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকম-লীদের দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। গত ১৫ ও ১৬ সালে পঞ্চম শ্রেণি সমাপনি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। ১৭ সালে ৬৫ ভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়। জায়গার অভাবে পিটি ক্লাস করানো হয় মধুপল্লীর বিভিন্ন গাছের নিচে। শিক্ষার্থীরা ছোটাছুটির সময় প্রায়ই গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। স্কুলটি মধুপল্লীর বাইরে স্থানান্তর করার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। মধুপল্লীতে নিয়োজিত প্রতœতত্ত্ব বিভাগের কাস্টডিয়ান মহিদুল ইসলাম বলেন স্কুলের শিশুদের জন্য মধুপল্লীর গেট স্কুল চলা পর্যন্ত খুলে রাখা হয়। তার পরও স্কুলটি মধুপল্লীর বাইরে নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

স্কুলের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র দেবনাথ বলেন, স্কুলটির জন্য সাগরদাঁড়ি বাজারের পাশেই একটি জায়গার কথা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত স্কুলটি পধুপল্লীর বাইরে স্থাপিত করতে পারলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আকবর হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টি মধুপল্লীর বাইরে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, ওই স্কুলটি মধুপল্লীর বাইরে স্থাপন করার জন্য তিন বিঘা জমি অধিগ্রহণের কাজ চলমান। অধিগ্রহণ শেষে স্কুলটি মধুপল্লীর বাইরে স্থানান্তর করা হবে।

 

"