ফরিদপুরে ৩৫ হাজার ৯০৭টি কোরবানির পশু প্রস্তুত

প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

কে এম রুবেল, ফরিদপুর

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খাইয়ে ফরিদপুরে ৩৫ হাজার ৯০৭টি পশু প্রস্তুত করেছে খামারিরা। আর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন, গরু মোটাতাজাকরণে খামারিদের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করার কথা।

কোরবানির ঈদের পশু পালন করে সাভলম্বী হচ্ছে ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকার খামারিরা। শুধুমাত্র কোরবানিকে সামনে রেখে ফরিদপুরে গড়ে উঠেছে ছোট ছোট গরু মোটাতাজা করার খামার। তেমনি শহরতলীর মুন্সীবাজার দেওড়া গ্রামের নিতাই লাল সাহার ছেলে দেবদাস সাহা দেবু দীর্ঘ ৩২ মাস লালন-পালন করেছেন বাহাদুর বাবুকে (নিজের বাড়ির গাভীর বাছুর)। কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া নিজের বাড়ির খড়, ভূষি ও খেতের কাঁচা ঘাস খাইয়ে বড় করেছেন বাহাদুর বাবুকে। বিশাল আকৃতির বাহাদুর বাবুকে কোরবানির ঈদের জন্য ক্রয় করতে ও দেখতে দেবুর বাড়িতে ভিড় করছে ক্রেতা ও দর্শনার্থীরা। ২০ মণ মাংসের বাহাদুর বাবুর দাম হাকিয়েছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। ইতোমধ্যেই বাহাদুর বাবুর দাম উঠেছে সাড়ে ৫ লাখ টাকা।

দেবদাস সাহা দেবু বলেন, সারা বছরই আমরা খামারে দুধের গাভী পালন করি। তবে কোরবানির মৌসুমে কিছু ষাড় কিনে মোটাতাজা করি। নিয়মিত স্বাস্থ্য সম্মত খাবার পরিবেশনের মাধ্যমেই এই খামারের গরু মোটাতাজা করা হয়। কোনো প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা হয় না। কিছুদিন আগে আমার খামার থেকে একটি দুধের গাভী (২৫ লিটার দুধের) বিক্রয় করেছি সাড়ে ৩ লাখ টাকায়।

শহরতলীর গোলডাঙ্গীর রোজিনা, ধলার মোড়ের শাহানা, শামীমসহ একাধিক ব্যক্তি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছেন।

খামারিরা বলেন, আমরা কিছু লাভের আসায় কোরবানির ঈদকে সামন রেখে গরু মোটাতাজা করে থাকি। কোনো প্রকার রাসায়নিক দ্রব্য ছাড়া স্বাস্থ্য সম্মত খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করেছি। এখন বিক্রির অপেক্ষায় আছি। সরকারের কাছে আমাদের একটি দাবি যেন ভারত থেকে কোরবানির গরু আমদানি না করা হয়। ভারতের গরু না আসলে, আমরা কিছুটা লাভবান হব।

ফরিদপুর প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানায়, কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২২ হাজার ৭৬৭টি গরু ও ১৩ হাজার ৭৯৭টি ছাগল-ভেড়া বিক্রির জন্য প্রস্তুত আছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুল হক বলেন, স্বাভাবিকভাবে কীভাবে গরু মোটাতাজা করা যায় সে বিষয়ে খামারিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছি। স্বাভাবিক খাবার খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হয়েছে। খামারিদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে। ফরিদপুরের অনেক খামারি গরু মোটাতাজা করে সাভলম্বী হয়েছেন।

 

"