ঈশ্বরগঞ্জে সরকারি বই বিক্রি করে দিলেন প্রধান শিক্ষক

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে একটি বিদ্যালয়ের সরকারি বই বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিক্রি করে দেওয়া কয়েক বস্তা সরকারি বই আটক করলে তোলপাড় শুরু হয়। পরে শিক্ষা বিভাগের লোকজন ও পুলিশ গিয়ে সরকারি বইগুলো উদ্ধার করেন।

জানা যায়, উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের চরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চলে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন বিশ্বজিৎ রায়। তিনি ২০০৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে রয়েছেন। ২০১৮ সালের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি কিছু বই গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বিমল দেবনাথ নামের এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করেন প্রধান শিক্ষক। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৪৪৯টি বই বিক্রি করা হয়। ১০ টাকা কেজি করে ৬০ কেজি বই বিক্রি করা হয়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় কয়েক যুবক মিলে বইগুলো আটক করে। পরে খবর দেওয়া হয় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মুদাব্বিরুল ইসলামকে। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বইগুলো বিদ্যালয়ে ফেরত নিয়ে যান। বিষয়টি জানানো হয় প্রশাসনের লোকজনকে।

সরকারি বই বিক্রি করে দেওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) নুরুল আমীন ঘটনাস্থলে গিয়ে বইয়ের তালিকা প্রস্তুত করেন। সেগুলো জব্দ করে ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায় দেন। ওই সময় ৬০ কেজি বই বিক্রির ৩০০ টাকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের হাতে তুলে দেন প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের কঠোর বিচার দাবি করলে তাৎক্ষণিক বিদ্যালয় থেকে প্রধান শিক্ষককে সরিয়ে নিয়ে যান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা।

রাজিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম মুদাব্বিরুল ইসলাম বলেন, সরকারি বই বিক্রি করে দেওয়া হলে স্থানীয়রা সেগুলো আটক করে তাকে খবর পাঠায়। পরে তিনি গিয়ে ঘটনার সত্যতা পেয়ে প্রশাসনের লোকজনকে জানান।

উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিও) নুরুল আমীন বলেন, সরকারি বই বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি প্রতিবেদন জমা দেবেন।

তবে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘সবই নাটক। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।’

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনার কলি নাজনীন বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা যে প্রতিবেদন জমা দেন সে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"