ব্রহ্মপুত্র নদে চলছে বালু উত্তোলনের মহোৎসব

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ইসমাঈল হোসেন, মনোহরদী আল আমিন মিয়া, পলাশ (নরসিংদী)

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ড্রেনেরঘাট শিমুলতলীতে ব্রহ্মপুত্র নদ খননের নামে চলছে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এতে করে পার্শ্ববর্তী গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা ও মনোহরদী উপজেলার রাস্তাঘাট, হাটবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িঘর ও শতাধিক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলন করছেন লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল আলম রতন ও লেবুতলা ইউপির ৩নং ওয়ার্ড সদস্য লেহাজ উদ্দিন, লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, স্থানীয় জনৈক ব্যক্তি সবুজ ও জাহাঙ্গীরসহ ২৫/৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের নেতৃত্বে প্রতিদিন শত শত ট্রাক বালু উত্তোলন করা হচ্ছে ড্রেজার মেশিন দিয়ে। নদী থেকে বালু উত্তোলন করে আঞ্চলিক রাস্তার পাশে পাঁচটি স্পটে পাহাড়ের মতো উঁচু করে জমিয়ে রাখে চক্রটি। পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্রেতাদের কাছে বালু বিক্রি করে। দৈনিক ৭০০ টাকা হাজিরায় পাঁচটি স্পটে ১০ জন লোক ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে। এর বাইরে অপরিচিত কোনো লোক বালু উত্তোলন স্থলে আসলেই কয়েকজন এসে নানা ধরনের প্রশ্ন করতে থাকে। বালু উত্তোলনের চিত্র ধারণ করতে গেলেও তারা বাধা প্রদান করে এবং বিভিন্ন ভয়ভীতি, হুমকি-দামকি দিতে থাকে।

কৌশলে তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা হুকুমের গোলাম হিসেবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে কাজ করেন। দিনে ও রাতে পালাক্রমে তারা বালুর স্পটে অবস্থান করে। লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্রতি সপ্তাহে এখানে এসে বালুর স্পট থেকে সেলামি নিয়ে যায়। যেখানে বালুর স্তূপ বেশি সেখান থেকে সেলামিও বেশি নেন। যেখানে কম বালু সেখান থেকে কম সেলামি নিয়ে থাকেন তিনি।

এ ব্যাপারে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, নদী খনন করার নামে যেন বালু উত্তোলনের ধুম পড়েছে। প্র্রতিদিন সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত শ্যালো ও ড্রেজার মেশিন চালিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। যেন দেখে মনে হয়, এখানে বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। ইউপি চেয়ারম্যান সরাসরি বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত থাকায় স্থানীয় পুলিশ-প্রশাসনও যেন নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে। নদী খননের নাম করে ইতোমধ্যে প্রায় চার কোটি টাকার বালু বিক্রি করা হয়েছে এখান থেকে। প্রতি ট্রাক বালু ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা করে বিক্রি করে থাকে চক্রটি।

তারা আরো জানিয়েছেন, কিছুদিন পূর্বে মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহ অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেছেন। কিন্তু চক্রটি এতেও খান্ত হয়নি।

এসব বিষয়ে লেবুতলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, কিছু কিছু স্পটে বালু বিক্রি হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু আমি এসব বালু উত্তোলনের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই।

অপরদিকে লেবুতলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি রং নম্বর বলে ফোন রেখে দেন।

মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শহিদ উল্লাহর সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, কোনো ব্যক্তি নদী খননের নামে বালু উত্তোলন করতে পারবে না। কারো বিরুদ্ধে বালু উত্তোলনের সুস্পষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"