মানিকগঞ্জে ৩ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জে পাটের ভালো ফলন হওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। পরিস্থিতি ও পরিবেশ অনুকূলে থাকলে ভালো দামের আশা করছে কৃষক। ভালো ফলন হওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে সরকারের সহায়তা পেলে আরো ভালো ফলন করতে পারবেন বলে তারা মনে করেন।

জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ সদর, ঘিওর, শিবালয়, সাটুরিয়া ও দৌলতপুর উপজেলাসহ জেলার সাত উপজেলায় ৩ হাজার ৫২৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে তোষা জাতের পাটের ২ হাজার ৯৫৬ হেক্টব, দেশি জাতের ৫৫৬ হেক্টর ও কেনাব জাতের ১৬ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এ বছর যার লক্ষ্য মাত্রা ছিল ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের প্রতিটি উপজেলায় পাট কাটা থেকে শুরু করে জাগ দেওয়ায় ব্যস্ত সময় পাড় করছেন চাষিরা। কেউ পাট জাগ দেওয়ার কাজে ব্যস্ত আবার কেউ পাটের আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। পাটের আঁশ ছাড়াতে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সাহায্য করছে।

স্থানীয় পাট চাষিরা জানায়, বহু পূর্বে থেকেই এ জেলায় পাটের ভালো ফলন হয়। কিন্তু বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত কয়েক বছর পাটের ভালো হয়নি। মাঝখানে পাটের চাহিদা ও দাম ভালো না থাকায় অনেকে পাট চাষ বাদ দিয়েছে। দেশে পলিথিন ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় পাটের তৈরি জিনিসপত্রের চাহিদাও কমে গেছে অনেক। এ ক্ষেত্রে পাটের তৈরি সামগ্রী ব্যবহার ও সরকারের সহায়তা দাবি করেছেন চাষিরা।

শিবালয় গ্রামের রিপন মিয়া নামের এক চাষি জানান, এ বছর তিনি পাঁচ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করেছে। প্রতি বিঘা জমিতে বীজ, সার, জমি পরিচর্চা থেকে শুরু করে জাগ দেওয়া পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় সাত থেকে আট মণ পাট হয়। আবহাওয়ার অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভালো ফলন হয়েছে। তবে এবার পাটের ভালো দাম পাব বলে আশা করছি। কুব্বাত আলী নামের এক চাষি জানান, এ বছর পাটের চাষ ভালো হয়েছে। কিন্তু সঠিক সময়ে পানি না আসার কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। ঠিকমতো জাগ দিতে না পারলে পাটের রং ও ভালো দাম পাওয়া যাবে না। তবে পাট চাষে বাড়তি সুবিধা হলো আঁশ ছাড়ানোর পর জ্বালানী হিসেবে খড়ি পাওয়া যায়। এ খড়ি জ্বালানী ছাড়াও বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা যায়। বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।

আবদুর রহিম নামের এক কৃষক জানান, বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম ২০০০ থেকে ২২০০ টাকা। কৃষক ও চাষিদের কাছ থেকে কম দামে পাট ক্রয় করে বিভিন্ন কারখানায় বেশি দামে বিক্রয় করছে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী। সরকার যদি এসব পাট সরাসরি ক্রয় করতেন তাহলে চাষি ও কৃষকরা আরো লাভবান হতো। দাম ভালো পেলে পাট চাষে আগ্রহ বাড়বে তাদের।

মানিকগঞ্জের কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে এ বছর ফলন ভালো হলেও লক্ষ্য মাত্রা পূরণ হয়নি। তবে ভালো ফলনের জন্য মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা চাষি ও কৃষকদের সব সময় পরামর্শ দিয়ে আসছে। কৃষকরা যদি আধুনিক উপায়ে পাট গাছ পচানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে আর পানির জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।

"