ফেনীতে ৩ নদীর বেড়িবাঁধ সংস্কার হয়নি দুই মাসেও

প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

শাহাদাত হোসাইন, ফেনী

ফেনীতে দুই মাসেও সংস্কার হয়নি তিন নদীর বেড়িবাঁধ। বন্যায় ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজীর মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর ২৯টি স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে ২০টি স্থানে বড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়ে বন্যার পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। আর বাকি ৯ স্থানে বেড়িবাঁধ ভাঙনের পাশাপাশি ফাটলের সৃষ্টি হলেও লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে পারেনি।

এদিকে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যায় জেলার মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনিয়া নদীর ভাঙনে বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যায়। লোকালয়ে পানি প্রবেশের ফলে ফসলহানি, বাড়িঘর ভাঙনের মুখে পড়ার পাশাপাশি ভেসে যায় পুকুরের মাছ। এ ছাড়া ফল-ফলাদি এবং মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।

নদী ভাঙনের এ ধারা চলছে বছরের পর বছর ধরে। গত ১০ বছরে তিন নদীর ভাঙনে গৃহহীন হয়েছে শত শত মানুষ। বিলীন হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি। অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে আবাদি ফসল ও ব্যবসা বাণিজ্যের। বন্যার ফলে ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। নিঃস্ব হয়েছে অনেক মাছ চাষি। গত ১০ বছরে স্থানীয় জনগণ এবং সরকারি হিসাবে লোকসানের পরিমাণ প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। প্রতি বছর এ তিন নদীর ভাঙা বাঁধগুলো মেরামতে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে।

এ বাঁধের ব্যাপারে স্থায়ী কোনো সমাধান না হওয়ায় প্রতি বছর নতুন করে বাঁধ নির্মাণ করতে হচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমের বন্যায় পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরী নদীতে ধনীকুন্ডা ব্রিজের সংলগ্ন শালধর, দূর্গাপুর, পশ্চিম অলকা, উত্তর দৌলতপুরে তিনটি, দক্ষিণ দৌলতপুরে দুটি, কাউতলী, উত্তর বরইয়ায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের খোন্দকিয়া, উত্তর বেড়াবাড়িয়া, মধ্য বেড়াবাড়িয়া, দক্ষিণ বেড়াবাড়িয়া ও জগতপুরে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। সিলোনিয়া নদীর সুবার বাজার, শালধর বাজার এলাকায় দুই স্থানে গোসাইপুরে দুটি বেড়িবাঁধ ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ফেনী পাউবো অফিসের সেকশন কর্মকর্তা মো. আরিফ জানান, ২০টি স্থানে বেড়িবাঁধের ভাঙা অংশ সংস্কারে দুই কোটি ছয় লাখ টাকার প্রাক্কলন ব্যয় পাঠানো হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি বাঁধের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কহিনুর আলম জানান, ফেনীর মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনিয়া নদীর ভাঙনের শিকার আটটি বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাকি বাঁধগুলো নদী শুকিয়ে গেলে সংস্কার করা হবে।

তিনি আরো জানান, মুহুরী নদী নিয়ে একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদীর এফসিডিআই পুনর্বাসন প্রকল্প নিয়ে গত ৫ জুলাই ঢাকা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে মিটিং করা হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এ নদীটির বিষয়ে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ফেনীর সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ফেনীর মতো পাঁচটি নদী বেষ্টিত আর সাগর বিধৌত জেলা বাংলাদেশের কোথাও নেই উল্লেখ করে নদী কেন্দ্রিক উন্নয়নে এ জেলা আগামী দিনের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।

এদিকে ফেনী সদর আসনের এমপি নিজাম উদ্দীন হাজারী চলমান বন্যায় পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, মুহুরী, কহুয়া আর সিলোনিয়া নদীতে স্থায়ী এবং টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে আগামীতে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হবে। এ প্রকল্পের অধীনে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক প্রটোকল কর্মকর্তা আলাউদ্দীন আহমেদ চৌধুরী নাসিমসহ পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল হক মাহমুদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

"