‘টাকা না দিলে পরীক্ষার হলে ঢুকতে দেব না’

প্রাইভেট পড়ানোর টাকা বাকি থাকায় পরীক্ষা দিতে বাধা

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর টাকা বাকি থাকায় পরীক্ষার হল থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষিকা দেলোয়ারা পারভিনের বিরুদ্ধে। গত সোমবার ঘটনাটি চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ঘটে। পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়া হয়, চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী প্রিয়া রোল, রুপা আক্তার, মো. রাব্বি শেখ, মো. নিশান ও সাদিয়াসহ অনেককে।

প্রিয়ার বাবা মো. আবদুল হালিম জানান, ক্ষেতে কাজ করে বাজারের দিকে যাচ্ছিলাম এমন সময় প্রিয়া এসে জানায়, প্রাইভেটের টাকা বাকি আছে। টাকা না দিলে পরীক্ষা দিতে দিবে না ম্যাডাম। পরে আমি প্রিয়াকে সঙ্গে নিয়ে স্কুলে যাই। প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা পারভিন আমাকেও উচ্চবাচ্য কথা বললে আমি বাড়িতে চলে আসি। পরে আমার ছোট ভাই প্রিয়াকে স্কুলে দিয়ে আসে পরিক্ষার দেওয়ার জন্য।

চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র নিশানের মা খুকি বেগম বলেন, স্কুলে প্রাইভেট না পাড়ানো কারণে আমার ছেলেকে দুই বছর ফেল কারায়। পরে আমি স্কুলে গিয়ে ফেলের বিষয় জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন যে, স্কুলে প্রাইভেট না পড়ালে তো ফেল করবেই। পরে বাধ্য হয়েই স্কুলে প্রাইভেট পড়ার জন্য দিই। মাসে ২০০ টাকা করে নেন তিনি। যদি কোনো মাসে টাকা দিতে দেড়ি হয় তখন আজেবাজে কথা বলে মারধর করে।

সাদিয়ার নানি মনোয়ারা বেগম জানান, আমার নাতনিকে টাকার জন্য পরিক্ষার খাতা রেখে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়। চন্দনী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সম্পাদক মো. রাকিবুল হাসান জানান, আমার চাচাতো ভাই রাব্বি কান্না করতে করতে বাড়ি দিকে যাচ্ছিল। তখন আমি ওর কাছে জানতে চাইলে বলে, প্রাইভেটের টাকা বাকি আছে তাই স্কুল থেকে বের করে দিয়েছে। টাকা না দিলে পরীক্ষা দিতে দিতে দিবে না আপা। পরে আমি ওর সঙ্গে স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলি। তিনি বলেন, প্রাইভেটের টাকা বাকি আছে, টাকা দিতে হবে। না দিলে পরিক্ষা দেওয়া যাবে না। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে রাব্বিকে পরিক্ষার হলে দিয়ে আসি। এই স্কুল নিয়ে নানা অভিযোগ আছে, আমরা এতদিন কিছু বলিনি। প্রাইমারি স্কুলে কেন প্রাইভেট পড়ানো হবে? অভিভাবকদের কেন বাধ্য করা হয় প্রাইভেট পড়াতে? টাকা দিতে না পারলেই ছাত্রছাত্রীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে বলেও অভিযোগ করেন এই ছাত্র নেতা। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া ইসলাম জানান, ‘আমরা বেলা সোয়া ১১টার দিকে স্কুলে যাই, তখন আমাদের প্রাইভেট পড়ায়। পরে ম্যাডাম বলে যে, কার কার প্রাইভেটের টাকা বাকি আছে দাঁড়াও। এ সময় তিনি বলেন যে, টাকা না দিলে পরিক্ষার হলে ঢুকতে দেব না, তাই টাকা নিয়ে আসো। কিন্তু আমার বাবা নেই, মা ঢাকায় থাকে। আমি নানির কাছে থাকি। আমরা গরিব, টাকা কোথায় পাব।’ এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ারা পারভিন স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, চতুর্থ, তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা হলো দেড়টায় কিন্তু ওরা এসেছে বেলা ১১টায়। এ জন্য আমি ওদের বলছি, তোমরা চলে যাও দেড়টায় পরীক্ষা শুরু হবে তখন এসো।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমা খাতুন বলেন, দেলোয়ারা পারভিন দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে জৌকুড়া স্কুলে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সে একজন ভালো শিক্ষক তার বিরুদ্ধে এলাকার কিছু লোক লেগেছে তাকে হয়রানি করার জন্য। ছাত্রদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। এ রমক ঘটনাই ঘটেনি।

এলাকাবাসীসহ একাধিক অভিভাবাক জানায়, দেলোয়ারা পারভিন স্কুলে প্রাইভেট পড়ার জন্য ছাত্রছাত্রীকে জোর করেন। আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই স্কুলে প্রাইভেট পড়াই। কারণ, যদি স্কুলে প্রাইভেট না পাড়ানো হয় তাহলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয়।

"