তুলসিখালী-মরিচা সেতু

এক যুগ ধরে জ্বলে না সেতুর বাতি

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

লিটন খান, কেরানীগঞ্জ (ঢাকা)

ঢাকা-নবাবগঞ্জ সড়কে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে ধলেশ্বরী ও ইছামতি নদীর উপর একযোগে নির্মিত হয় তুলসিখালী ও মরিচা সেতু। কেরানীগঞ্জ উপজেলার রুহিতপুর ইউনিয়নের লাখিরচর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে তুলসিখালী সেতু এবং মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান থানার চিত্রকোট ইউনিয়নে ইছামতি নদীর ওপর নির্মিত হয় মরিচা সেতু। সেতু নির্মাণের পর ঢাকা নবাবগঞ্জ সড়কের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলেও এক বছর শেষ না হতেই সেতুর ওপর স্থাপিত বাতিগুলো সব বিকল হয়ে যায়। বাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার এক যুগ অতিবাহিত হলেও সেই বাতিগুলো আর সংস্কার করা হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পরই সেতুর ওপর বেড়ে যায় ছিনতাইকারীদের আনাগোনা। ঘটছে ডাকাতি, ছিনতাইয়ের ঘটনা। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, দুটি সেতুর ওপরে সবকটি সড়ক বাতির খুঁটিই বাতিবিহীন অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও খুঁটিই নেই।

মরিচা সেতুর টোলপ্লাজার সামনের চা বিক্রেতা আবদুর রশিদ বলেন, ২০০৫ সালে সেতু দুটি উদ্বোধন করা হয়। ওই বছরের শেষের দিকেই সেতুর বাতিগুলো নষ্ট হয়ে যায়। পরে বাতিগুলো চুরি হয়ে যায়। এমনকি সেতুর বাতি জ্বালানোর জন্য স্থাপিত ট্রান্সফারমারটিও চোরে নিয়ে যায়। এরপরই শুরু হয় সেতুর ওপর ছিনতাই ও ডাকাতি।

ডাকাতির শিকার হওয়া সিরাজদিখান এলাকার বাসিন্দা হাসান জানান, বেশ কিছুদিন আগে সন্ধ্যার পরে এ রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে তিনি নবাবগঞ্জ যাচ্ছিলেন। মরিচা সেতুর উপর গেলেই ৪-৫ জনের একটি ডাকাতল তার গতিরোধ করে। পরে ছুরিকাঘাত করে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা।

দোহার এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম খান বলেন, আমি কেরানীগঞ্জের কদমতলী থেকে সিএননজি অটোরিকশাযোগে দোহার যাচ্ছিলাম। তুলসিখালী সেতুর ওপরে আমার সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে ছিনতাইকারীরা আমার গলা টিপে ধরে। পরে তারা আমার কাছে থাকা দেড় লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সিরাজদিখান থানার চিত্রকোট ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শফি উদ্দিন খান বলেন, সেতুর ওপর অন্ধকার নেমে আসলেই বেড়ে যায় ছিনতাইকারী ও ডাকাতদের আনাগোনা। ডাকাতি বন্ধের জন্য আমরা নিয়মিত পাহারার ব্যবস্থাও করেছিলাম। পরে কয়েকজন ডাকাতকে ধরে পুলিশে দিয়েছি। এখন সেসব মামলায় আমাদেরও সাক্ষী দিতে কোর্টে যাওয়া লাগে। কোর্টে যাওয়ার ভয়ে এখন আর কেউ পাহারা দিতে চায় না। তবে সেতুর ওপর পুনরায় বাতির ব্যবস্থা করলে এসব সমস্যা আর থাকবে না।

মুন্সীগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-প্রকৌশলী সৈয়দ আলম বলেন, সেতু দুটির বাতি নষ্টের বিষয়টি আমাদের নজরে আছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।

"