কোরবানির পশু

নীলফামারীর লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার মেহেরপুরে প্রস্তুত লক্ষাধিক পশু

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ওয়ালি মাহমুদ সুমন, নীলফামারী ও দিলরুবা খাতুন, মেহেরপুর

দোরগোড়ায় ঈদুল আজহা। ঈদ সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাকৃতিক উপায়ে অনেক খামারি ও ব্যক্তি পারিবারিকভাবে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। ইতোমধ্যে এসব পশু বাজারজাত শুরু হয়েছে।

নীলফামারীতে এবার ৫৫ হাজার পশুর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পশু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। গতবারের চেয়ে এবার পরিমাণে ১০ হাজার বেশি। মেহেরপুর প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানাচ্ছে, তাদের তত্ত্বাবধানে জেলায় সাড়ে ৩৬ সহস্রাধিক গরু, অর্ধশতাধিক মহিষ, প্রায় ৬০ হাজার ছাগল ও ২ সহস্রাধিক ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ইতোমধ্যে জেলার ২৩ হাজার ৬০০ খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার পশু। গত বছর নীলফামারীর গরু, ছাগল ও অন্যান্য পশু মিলে ৪৭ হাজার ৭৯৫টি পশু কোরবানি হলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৫ হাজার। সে হিসেবেই পশু প্রস্তুত করছেন খামারিরা। কৃত্রিম উপায়ে পশু মোটাতাজাকরণ রোধে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা। এ ছাড়া হাটবাজারে যাতে অসুস্থ বা কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা গরু বিক্রি করা না হয়, সেদিকে নজর রাখছেন কর্মকর্তারা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে কমিটিও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ছয় উপজেলার মধ্যে সৈয়দপুর, ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় খামারির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এসব খামারে পশুদের খাওয়ানো হচ্ছে নেপিয়ার পাকচংক ঘাস, খড়, ভুসি, ভাত ও আলু। যার ফলে খরচের পরিমাণ একটু বেশি। মোটতাজাকরণে ব্যবহার করা হচ্ছে না কোনোরকম স্টেরয়েড, হরমোন কিংবা কোনো কেমিক্যাল।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৩ হাজার ৬০০ খামারের মধ্যে ১৭ হাজার ৫৮৯টি গরু এবং ছয় হাজার ১১টি ছাগলের খামার রয়েছে পুরো জেলায়। গত বছর ৪৭ হাজার ৫৪৩টি পশু, ২০১৬ সালে ৩৮ হাজার ৩৭৪টি এবং ২০১৫ সালে ২৯ হাজার ৩৪৬টি পশু কোরবানি করা হয় নীলফামারীতে।

সৈয়দপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, আমরা মাঠপর্যায়ে ইতোমধ্যে খামারগুলো পরিদর্শন করেছি। সেগুলোতে কোনোভাবে রাসায়নিক ব্যবহার করে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে না। ঈদের বাজারে যাতে কোরবানি উপযোগী পশু বিক্রি করা হয়, আমরা সে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। জেলাবাসীকে আশ্বস্ত করে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোনাক্কা আলী জানান, কোনো খামারে কৃত্রিম উপায়ে বা নিষিদ্ধ ওষুধ ব্যবহার করে পশু মোটাতাজা করা হয়নি। খামারিদের সহযোগিতা করে প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করা হয়েছে।

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসেবে মেহেরপুর জেলায় ৩৬ হাজার ৫৪৩টি গরু, ৬৪০টি মহিষ, ৫৯ হাজার ৪৯০টি ছাগল ও দুই হাজার ২৮২টি ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করতে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ তত্ত্বাবধান করছে। মেহেরপুরের গাংনীর মালসাদহ গ্রামে অবস্থিত জেলার সবচেয়ে বড় ফার্ম ‘অ্যাপকম ক্যাটেল ফার্ম’। সরেজমিনে দেখা যায়, চারটি শেডে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। ফার্মের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, পশুকে প্রাকৃতিক ঘাস, ভুসি, খৈল, খড়সহ রাসায়নিকমুক্ত খাবার দেওয়া হয়। কোন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য বা ট্যাবলেট গরুকে দেওয়া হয় না। ক্ষতিকারক কোনো ট্যাবলেট না দেওয়ার কারণে অন্য প্রতিষ্ঠানের মতো এখানে রাতারাতি গরু মোটা হয় না। এ জন্যই এই ফার্মের গরু স্বাস্থ্যসম্মত। তিনি আরো জানান, তার ফার্মে বর্তমানে ১৮০টি গরু রয়েছে ২৭ মাস বয়সের। প্রতিটি গরু ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে কিনে ১০ মাস লালনপালন করে কোরবানিকে সামনে রেখে বিক্রি করেন। প্রতিটি গরু ৬৫ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। একইভাবে জেলার মুজিবনগর উপজেলায় ‘মুজিবনগর অ্যাগ্রো লিমিটেড’ ফার্মে শতাধিক গরু মোটাতাজা করা হচ্ছেন ফার্মের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম।

গাংনী পৌর এলাকার মালসাদহ গ্রামের আবদুল করিম ও সালেহা বেগম বলেন, গত ১০-১২ বছর ধরে তারা একটি দুটি করে গরু মোটাতাজা করে নিজেরা স্বাবলম্বী হয়েছেন। তার মতো গ্রামের অধিকাংশ পরিবার গরু পালন করেই ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আওয়াল জানান, বেশ কয়েক বছর ধরে নিষিদ্ধ ডেক্সামেথ্যাসন ট্যাবলেট খাইয়ে মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি চালু ছিল। জেলা প্রাণিসম্পদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিসদ উদ্যোগ নিয়ে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনে উদ্বুদ্ধ করেছে খামারিদের। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও জন প্রতিনিধিগণ খামারিদের উৎসাহিত করেছে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পশু পালনে। এ ছাড়া খামারগুলোতে অনেক নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলেও জানান তিনি।

"