হুমকির মুখে ফসলি জমি

জয়পুরহাটে অবৈধভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা

পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

রেজাউল করিম রেজা, জয়পুরহাট

জয়পুরহাটে সরকারি নিয়ম না মেনে লাইসেন্স ও পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠছে নতুন নতুন ইটভাটা। ভাটার মামলামাল ও মাটি সরবরাহের কাজে রাস্তায় নির্বিঘেœ চলছে ভটভটি-ট্রাক্টর। ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনাও। তবে এ বিষয়ে অভিযোগ করেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।

নিয়ম অনুযায়ী কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও ফসলি জমির আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ করা যাবে নাÑ এমন সরকারি নীতিমালা থাকলেও তা মানছেন না এলাকার প্রভাবশালী ভাটা মালিকরা। জয়পুরহাট সদরের ভাদসার সগুনা চারমাথা দিওর এলাকায় বাজারের কাছাকাছি এলজিইডি মুন ব্রিকস নামে নতুন ইটভাটা গড়ে তুলছেন বাচ্চু রহমান। তিনি পাশের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। এলাকাবাসীরা অবিলম্বে এই অবৈধ ভাটা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। গত ৫ জুলাই জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন হেলাল হোসেন।

অভিযোগে তিনি জানান, তার বাড়ির মাত্র ২০ গজ দূরেই ভাটা নির্মাণ করা হচ্ছে। তিনিসহ স্থানীয়রা বারবার ভাটা নির্মাণে নিষেধ করলে ভাটা মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা কাউকে তোয়াক্কা করছেন না। ভাটা নির্মাণের কাজ চালিয়েই যাচ্ছেন। এ ছাড়াও ভাটা নির্মাণের মালামাল সরবরাহের গাড়িতে একজন নিহত ও একজন পঙ্গু অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ভাটার চারদিকে ফসলি জমির ধান, মরিচ, পেঁয়াজ, হলুদ, কলা, পটল, পাট, গমসহ সকল ফসল বিনষ্ট হচ্ছে এবং হবে। বাধ্য হয়ে তিনি গ্রামবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসকের কাছে ভাটা বন্ধের জন্য লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। নির্মাণাধীন মুন ব্রিকসের মালিক বাচ্চু রহমান বলেন, পরিবেশ ছাড়পত্র এখনো পাইনি। লাইসেন্সের জন্য স্থানীয় প্রশাসনে প্রস্তুতি চলছে। জয়পুরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, ভাটা নির্মাণের অনিয়ম বিষয়ে যদি কোনো অভিযোগ আসে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আ ত ম আবদুল্লাহেল বাকী জানান, আমাদের নিকট অবৈধভাবে ভাটা নির্মাণের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ এসেছে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলে মোবাইল কোর্টসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

"