ধুনটে বাঙ্গালী নদীর বাঁধকাম সড়কে ভাঙন

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আবু সুফিয়ান, ধুনট (বগুড়া)

বগুড়ার ধুনট উপজেলার পেঁচিবাড়ি গ্রামে বাঙ্গালী নদীর পূর্ব তীরে বাঁধ কাম সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে পেঁচিবাড়ি-চকধলী গ্রামের পথচারী চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৭ সালে সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প (ডিআইডিপি) নামে একটি বেসরকারি সংস্থা ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি থেকে শেরপুর উপজেলার সাহেববাড়ি ঘাট পর্যন্ত বাঙালি নদীর পূর্ব তীরে ১০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়কটি নির্মাণ করে। বাঁধটি নির্মাণের ফলে ধুনট উপজেলার চৌকিবাড়ি, মথুরাপুর, গোপালনগর এবং শেরপুর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নের প্রায় দুই লাখ পরিবার প্রতি বছর বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়। এ ছাড়া বাঁধের ওপর দিয়ে প্রায় ৩০টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে।

এদিকে, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে পেঁচিবাড়ি গ্রামের শ্বশান এলাকায় এবং গ্রামের শেষ সীমানায় বাঁধ কাম সড়কে ভাঙন দেখা দেয়। এর মধ্যে গ্রামের শেষ সীমানায় সিসি ব্লকসহ বাঁধের মাটি ধসে গেছে। এতে বাঁধটি সরু হয়ে যাওয়ায় ওপর দিয়ে রিকশা-ভ্যানসহ হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে মেরামত না করলে ভাঙন বৃদ্ধি পেতে পারে। তাছাড়া বর্ষা মৌসুমে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বাঁধ ভেঙে বন্যার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নদী ভাঙনের কারণে পেঁচিবাড়ি গ্রামের শ্বশানটি নদীতে বিলীনের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

চকধলী গ্রামের জাহিদুল ইসলাম বলেন, পেঁচিবাড়ি-চকধলীর মাঝামাঝি এলাকায় বাঁধের কিছু অংশ বর্তমানে বাঙালি নদীর তীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। যে কারণে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সেখানে ভাঙন দেখা দেয়। ওই পথে পায়ে হেঁটে বা মোটরসাইকেল ছাড়া অন্য কোনো পরিবহন নিয়ে চলাচল করা যায় না।

চৌকিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাবু মিয়া জানান, নির্মাণের পর থেকে ইঁদুরের গর্ত, অতিবৃষ্টি এবং নদীর পানির আঘাতে বাঁধটির ক্ষতি হয়। অনেক দিন আগে বাঁশের প্যালাসাটিং এবং সিসি ব্লক দিয়ে বাঁধের কিছু অংশে কাজ করা হয়েছিল। যা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের কয়েকটি অংশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে বা অতিবৃষ্টিতে ভাঙন বাড়তে পারে। এতে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে। ইউএনও রাজিয়া সুলতানা বলেন, বাঙালি নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কাম সড়কটিতে ভাঙনের খবর পেয়েছি। ভাঙনস্থল মেরামত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

"