মাদারগঞ্জ মিল্ক ভিটা

বন্ধের পাঁচ মাস পরও শুরু হয়নি দুধ সংগ্রহ

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

খাদেমুল ইসলাম, মাদারগঞ্জ (জামালপুর)

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা মিল্ক ভিটার দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রটিতে বন্ধের প্রায় পাঁচ মাস পরও দুধ সংগ্রহ শুরু হয়নি। দুধ সংগ্রহ বন্ধ থাকায় উপজেলার ২০টি সমিতির সহস্রাধিক খামারি দুধ সরবরাহ করতে পারছে না। ফলে খামারারিরা তাদের উৎপাদিত দুধ নিয়ে পড়েছেন চরম বিপাকে। বাধ্য হয়ে স্বল্পমূল্যে বাজারে দুধ বিক্রি করছেন তারা। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে খামারিদের। ফলে বিপাকে পড়েছেন দুধ উৎপাদনকারী সমবায়ীরা।

মাদারগঞ্জ মিল্ক ভিটা অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মাদারগঞ্জ দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের কার্যক্রম শুরু হয়। সমবায়ীদের থেকে দুধ সংগ্রহ করে মিল্ক ভিটা ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। গত ৩ মার্চ মিল্ক ভিটা মাদারগঞ্জ কার্যালয় থেকে ঢাকায় পাঠানো পাঁচ হাজার লিটার দুধ পরীক্ষা করে তাতে খাবার সোডা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় মিল্ক ভিটার প্রধান কার্যালয় থেকে চিঠি পাঠিয়ে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ল্যাব টেকনিশিয়ানকে চাকরিচ্যুত এবং মিল্ক ভিটায় খামারিদের থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে খামারিদের অভিযোগ মিল্ক ভিটায় দুধ সংগ্রহ বন্ধ হওয়ার পেছনে একটি স্বার্থান্বেষী মহল জড়িত রয়েছে। উপজেলার একাধিক দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারি জানান, মিল্ক ভিটা কর্তৃপক্ষ দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেওয়ায় পাঁচ মাস ধরে খামারিরা দুধ নিয়ে বেকায়দায় রয়েছেন। বাজারে দুধের দাম কমে গেছে। এতে খামারিদের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোকসানে রয়েছেন।

মাদারগঞ্জ মিল্ক ভিটার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম জানান, কৌটাবহির্ভূত দুধ সংগ্রহ ও দুধে এসিডিটি (অম্লতা) ধরা পড়ায় কর্তৃপক্ষ দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় কিছু খামারি কৌটাবহির্ভূত দুধ নিতে বাধ্য করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে। মিল্ক ভিটায় খামারিদের থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ লিটার দুধ সরবরাহ করা হতো। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলে আবারও মিল্ক ভিটায় দুধ সংগ্রহ শুরু করা হবে।

 

"