পাথরঘাটা থেকে দেশীয় মাছ বিলুপ্তির পথে

প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ইমরান হোসাইন, পাথরঘাটা (বরগুনা)

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বিভিন্ন জলাশয় থেকে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। গত ১০-১৫ বছরের ব্যবধানে অর্ধশতাধিক দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে দেশি প্রজাতির মাছের স্থান দখল করে নিয়েছে সামুদ্রিক বিভিন্ন জাতের মাছ।

জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে ও পুকুরে পাঙ্গাশ, সিলভার কার্প, জাপানি রুই, গ্রাসকার্প, থাইপুঁটি, বিভিন্ন জাতের তেলাপিয়া, মিনারকার্প, থাই কৈ, আফ্রিকান মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বিদেশি মাছ চাষ হচ্ছে। অধিক মুনাফা লাভের আশায় মৎস্য চাষিরা বিদেশি জাতের মাছ চাষের দিকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকে পড়ছেন। এই মাছ চাষ করতে গিয়ে চাষিরা জলাশয়ের পানিতে নানা প্রকার কীটনাশক বিষ দেওয়ার কারণে দেশি মাছ মরে গিয়ে বিলুপ্ত হতে চলেছে বলে অভিজ্ঞ মহলের অভিমত। স্থানীয়রা জানান, গত ১০-১২ বছর আগেও উপজেলার হাট বাজারে কৈ, মাগুর, শিং, বোয়াল, মৈল, বাতাসী, খৈলশা, টুপি, আইড়, বাঘাইর, রিঠা, বাউস, পাবদা, চেলা, চিতল, টাকি, টেংরা, সরপুঁটি, গোলশা, ভেদা, বেলেসহ প্রায় অর্ধ-শতাধিক সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেত। বর্তমানে এগুলোর অস্থিত্ব বিলীনের পথে। উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের হানিফসহ বেশ কয়েকজন জেলে বলেন, আগেকার সময় প্রতিবছর বর্ষার দিনে পানিতে প্রচুর পরিমাণে দেশীয় মাছ আসত। তখন জাল পেতে নদী থেকে পোনা ধরতে হতো না। বর্ষার পানিতে পোনা ছড়িয়ে যেতো বিভিন্ন নদী, খাল-বিল ও জলাশয়ে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে প্রচুর পরিমাণ মাছ ধরা পড়ত। এ ছাড়া আষাঢ় মাসে বর্ষার নতুন পানিতে বড় বড় কাতল, রুই, কালিবাউশ ও বোয়াল মাছ ধরা পড়ত। সে দিন আর নেই, এখন দেশি জাতের মাছের দেখা মেলে না।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে কৃষি জমিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার ও বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ের পানিতে মিশে পানি বিষাক্ত হওয়ার ফলে দেশি মাছ মরে যাচ্ছে। পাথরঘাটা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজহারুল ইসলাম জানান, উপজেলা মৎস্য অধিদফতরের উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি মাছের পোনা নদী, খাল-বিলে অবমুক্ত করা হবে। দেশীয় জাতের মাছ রক্ষার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে জলাশয়ে পরিমাণ কমে যাওয়ায় দেশীয় মাছ হারিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

 

"