সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগে নেই পরিবেশ অধিদফতর

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি

পরিবেশ দূষণরোধে প্রতি জেলায় পরিবেশ আদালত স্থাপনের বিধান পাস করা হলেও সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগের কোথাও এ আদালত স্থাপন করা হয়নি। এর ফলে ইটভাটা, গাড়ির কালো ধোয়া ও মিল ইন্ডাস্ট্রিজের বর্জ্যে পরিবেশ দূষিত হলেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছেন না পরিবেশ অধিদফতর।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, পরিবেশ দূষণকারীদের পাঁচ বছরের কারাদন্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রেখে ২০১০ সালে পরিবেশ আদালত আইন অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। কিন্তু মন্ত্রিসভার ওই আইন কার্যকর না হওয়ার দরুন পরিবেশ দূষিত হওয়া, ইটভাটা ও মিল ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা শূন্যের কোটায়। এরপরেও পরিবেশ রক্ষায় যতটুকু কাজ হচ্ছে তা শুধু কাগজে-কলমে। তবে পরিবেশ দূষণরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হলে পরিবেশ আদালত স্থাপনের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের।

সৈয়দপুর শহরের বাসিন্দা বলেন, স্থানীয় খড়খড়িয়া নদী ও পচা নালায় রাবেয়া ফ্লাওয়ার মিলসহ বিসিক শিল্প নগরীর বর্জ্যে মরছে দেশীয় মাছ। নষ্ট হচ্ছে আশেপাশের এলাকার হাজার একর ফসলি জমি। এ ছাড়া ইটভাটা এলাকায় ফসলি জমির অবস্থাও করুণ। তারা আরো বলেন, শুধুমাত্র পরিবেশ আদালত না থাকার দরুন সাংবাদিকরা পরিবেশ দূষণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করলে মিলছে নানান ধরনের হুমকি। সম্প্রতি শহরের আবাসিক এলাকায় গুলের গন্ধে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ার সংবাদ প্রকাশ করা হলে গুল উৎপাদকরা মামলা ও ঝামেলার হুমকি দিয়ে চলেছেন।

মাহাবুব আলম নামের এক সহকারী (ভূমি) কমিশনার জানান, পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত অপরাধের বিচারের জন্য ২০০০ সালে জারি করা হয় পরিবেশ আদালত স্থাপনের। কিন্তু সৈয়দপুরসহ রংপুর বিভাগে পরিবেশ আদালত না থাকার দরুন পরিবেশ দূষণকারীদের যৎসামান্য জরিমানা করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর পরিবেশ দিবস এলে ঢাকঢোল পিটিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। কিন্তু আদালত না থাকায় কঠোর ভূমিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সরকার যদি পরিবেশ দূষিত করা ব্যক্তিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিচার ও জরিমানা করার নির্দেশ দেন তাহলে কিছুটা হলেও পরিবেশ দূষণ মুক্ত করা সম্ভব।

শহরের সিনিয়র আইনজীবী রাফিউল ইসলাম খাজা বলেন, পরিবেশ দূষণমুক্ত করতে চাইলে অবশ্যই আদালতের প্রয়োজন। পরিবেশ আদালত স্থাপন করা হলে এ আইনের আওতায় এনে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।

"